
কলকাতা, ৫ জানুয়ারি (হি. স.) : দীর্ঘ ৯ বছর পর নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞদের ৭৭ তম জাতীয় সম্মেলন কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ইএনটি বিশেষজ্ঞদের জাতীয় সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গলজিস্ট অফ ইন্ডিয়ার (এওআই) এই বাৎসরিক সম্মেলন (এওআইকন-২০২৬) আগামী ৮-১১ জানুয়ারি বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বে পরিবেশ দূষণে ভারতের স্থান পঞ্চমে। এই সমস্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। দূষণের ফলে সবথেকে বেশি মানুষ ভোগেন অ্যালার্জি, বিশেষত অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে। নাক দিয়ে জল পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, জ্বালা চুলকানি কাশি সর্দি প্রভৃতি এই অসুখের সাধারণ উপসর্গ। দূষণের ফলে সাধারণ সর্দি জটিল হয়ে ওঠে, মানুষ অ্যালার্জেনের প্রতি অতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠেন।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, এদেশের জনসংখ্যার কুড়ি - তিরিশ শতাংশ মানুষ অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের শিকার, আর দেশের ১৯ টি রাজ্যের ৫৩ শতাংশ মানুষের সর্দি ও শ্বাসনালী সংক্রান্ত সমস্যার মূলে দূষণ।
অ্যালার্জিক রাইনাইটিসকে প্রধান গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশ থেকে প্রায় ৩৫০০-৪০০০ নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ এই সম্মেলন উপলক্ষে কলকাতায় আসছেন। অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে কলকাতার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন সোমবার এওআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি ডা. দ্বৈপায়ণ মুখার্জি।
তিনি জানান যে ইএনটি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আলোচনার এই বিশ্বমঞ্চে নাক-কান-গলার বিভিন্ন সমস্যার অত্যাধুনিক চিকিৎসা ও সার্জারির উপরে আলোচনা হলেও পরিবেশ দূষণ থেকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ভার্টাইগো, ইএনটি চিকিৎসার ইন্ডিয়ান রূপরেখা প্রভৃতি কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এটিও প্রমাণিত সত্য যে শহরাঞ্চলে শব্দ দূষণের ফলে শ্রবণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে শ্রবণ সংক্রান্ত সমস্যাও। আবার এখন এটিও প্রমাণিত যে দীর্ঘ দিন ধরে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভুগলে রোগী ক্রমে হাঁপানির শিকার হয়ে পড়তে পারেন। আসলে আমাদের দেশে দূষণের সঙ্গে সঙ্গে নাক কান গলার সমস্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
সম্মেলনের কার্যনির্বাহী সম্পাদক ডা. স্নেহাশিষ বর্মণ জানান অ্যালার্জিক রাইনাইটিসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এওআই-এর প্রথম দিন ‘অ্যালার্জিক রাইনাইটিস’-এর সারাদিন ব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত