
কলকাতা, ৪ জানুয়ারি (হি. স. ) : সিএএ নিয়ে মতুয়া সমাজকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ও হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে রাজ্যের শাসক দলকে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মতুয়া সমাজের মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এই সমাজকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, মতুয়া সমাজের ইতিহাস ও আন্দোলন বহু পুরনো। ঠাকুর হরিচাঁদ ও ঠাকুর গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে এই সমাজ সংগঠিত হয়েছিল এবং নাগরিকত্বের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। অতীতে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট সরকার একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করা হয়নি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করে শরণার্থীদের নাগরিকত্বের মর্যাদা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই সিএএ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়ে আসছেন এবং একে এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্পের সঙ্গে জুড়ে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এর ফলস্বরূপ ২০১৯ ও পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখা গেছে।
শুভেন্দুবাবু বলেন, “বাস্তবে সিএএ কার্যকর হওয়ার পর প্রমাণ হয়েছে যে এই আইনের সঙ্গে এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্পের কোনো সম্পর্ক নেই এবং দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আবেদনকারীরা ইতিমধ্যেই নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে এবং বহু মানুষ নাগরিকত্ব পেতে শুরু করেছেন।
বিরোধী দলনেতা বলেন, ভোটের সময় ঘনিয়ে এলেই আবার এনআরসি-র ভয় দেখিয়ে মতুয়া সমাজ ও হিন্দু শরণার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে সমাজকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চলছে বলেও তিনি বলেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকাকে তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী মতুয়া সমাজের জন্মস্থান ওড়াকান্দিতে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন এবং শরণার্থীদের সুরক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেওয়া বহু শরণার্থীকে রাজ্য পুলিশ হয়রানি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে যে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ধর্ম ও প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আসা বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীদের কোনো রাজ্য পুলিশ হয়রানি বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠাতে পারবে না।
তিনি বলেন, সিএএ কার্যকর করা ও শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে মোদী সরকার বাস্তবেই মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। মতুয়া সমাজ ও হিন্দু শরণার্থীদের বিভ্রান্ত করার যে রাজনীতি চলছে, ভারতীয় জনতা পার্টি তার তীব্র নিন্দা জানায়। বিজেপি ভবিষ্যতেও সনাতন হিন্দু সমাজ ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত