
কলকাতা, ৭ জানুয়ারি (হি. স. ) : “বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জনগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে সদ্ভাব থাকতে কোন বাধা নেই। কিন্তু বিশেষ করে তাদের স্বার্থ আর রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের এক মনে করা চরম ভণ্ডামি। কখনো ভুলবেন না।” বুধবার এক্সবার্তায় এ কথা লিখেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।
তিনি লিখেছেন, “• বাঙালি হিন্দু আর বাঙালি মুসলমানের স্বার্থ দুই মেরুতে । সমাজব্যবস্থা: আমরা বাঙালি হিন্দুরা খুড়তুত জ্যাঠতুতো ভাইবোনের, অর্থাৎ first cousin এমনকি second cousin দের মধ্যে বিয়েকে ঘৃণা করি, incest মনে করি। বাঙালি মুসলমানের মধ্যে এটা স্বাভাবিক।
• আজকে আইনত বিবাহ ও বিচ্ছেদের অধিকারের মধ্যে হিন্দু স্ত্রীপুরুষের কোনো প্রভেদ নেই, কিন্তু বাঙালি মুসলমানের আছে। বহুবিবাহ, তিন তালাক, নিকা হালালা প্রভৃতিও বাঙালি হিন্দুদের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য। সাধারণভাবে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে গৃহকর্মের বাইরে মেয়েরা বহু যোজন পিছিয়ে, কিন্তু বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে এটা অনেক কম, ক্রমাগত কমছে।
• নামকরণ, বলাই বাহুল্য।
• খাদ্যাভ্যাসও তাই।
• বেশভূষা: পশ্চিমী পোশাক পড়লে আলাদা কথা। তা না হলে হিন্দু হয়ে আমার কোন বাধ্যবাধকতা নেই যে দাড়ি রাখতে, হাঁটু ঢাকতে বা গোড়ালি দেখাতে, হবে। কিন্তু মুসলমানের আছে।
• ধর্মাচরণ: আমি বাঙালি হিন্দু হয়ে এক ঈশ্বরে, বহু ঈশ্বরে, নিরীশ্বরে বিশ্বাস রাখতে পারি, মূর্তিপূজা করতে পারি, নাও পারি, অদ্বৈতবাদী, দ্বৈতবাদী, বিশিষ্টাদ্বৈতবাদী, যা খুশি হতে পারি। বাঙালি মুসলমানের মধ্যে এটা অকল্পনীয়।
• রাজনীতি : বাঙালি মুসলমানদের রাজনৈতিক চেতনা টনটনে, বাঙালি হিন্দু সেই তুলনায় হাবাগোবা।মুসলমানেরা শুক্রবারের নামাজের পর সলাপরামর্শ করে সবাই মিলে একজনকে ভোট দেয়; হিন্দুরা ‘ইন্টেলেকচুয়াল', তারা নিজেরা বুদ্ধিবিবেচনা করে ভোট দেয়। দেশভাগ হয়ে বাঙালি হিন্দুর বিশাল ক্ষতি হয়েছে, চৌদ্দপুরুষের বাসস্থান ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আসতে হয়েছে। মুসলমানের বিরাট লাভ হয়েছে। তারা পশ্চিমবঙ্গে যথারীতি থেকে গেছে, এবং অবিরাম প্রজনন করে এবং পূর্ববাংলা থেকে অনুপ্রবেশ করিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও সংখ্যাগুরু হবার পথে। অর্থাৎ বাঙালি মুসলমানেরা গাছেরও খেয়েছে, তলারও কুড়িয়েছে, বাঙালি হিন্দু আঁটি চুষেই সন্তুষ্ট।
• দুই সম্প্রদায়ের ভাষা আলাদা। জোর করে আরবি-ফার্সি শব্দ ঢুকিয়ে মুসলমানেরাই এটা করেছে। ‘ফুফা', খালা', ‘আপা', ‘বুবু’, ‘দুলাভাই', ‘এন্তেকাল’, ‘ইনশাল্লা’, ‘মাশাল্লা’, ‘আহাজারি’, ‘আলহামদুলিল্লা’, ‘তওবা' ইত্যাদি শব্দ বাঙালি হিন্দু চেনেই না। এ ছাড়া আরো বহু আছে।
এর থেকে প্রমাণ হয় বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জনগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে সদ্ভাব থাকতে কোন বাধা নেই ।
কিন্তু বিশেষ করে তাদের স্বার্থ আর রাজনীতি সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের এক মনে করা চরম ভণ্ডামি।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত