
নয়াদিল্লি, ৮ জানুয়ারি (হি.স.): বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত জলীয় বাষ্প (জলীয় বাষ্পকণা) অ্যারোসলের (গ্যাসের মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম কঠিন বা তরল কণা) তুলনায় পরিবেশকে অনেক বেশি উষ্ণ করে তোলে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। বায়ুমণ্ডলীয় গবেষণা সংক্রান্ত বিজ্ঞান জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় জানানো হয়েছে, জলীয় বাষ্প ও অ্যারোসলের পারস্পরিক ক্রিয়া বায়ুমণ্ডলের বিকিরণ ভারসাম্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আঞ্চলিক জলবায়ু ও ভারতীয় গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বৃষ্টির উপর।
বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নৈনিতালের আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অবজারভেশনাল সায়েন্সেস (এআরআইইএস) এবং বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আইআইএ)-এর বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক গবেষকদের সহযোগিতায় এই সমীক্ষা পরিচালনা করেন। গবেষণায় ভারত–গঙ্গা সমভূমি অঞ্চলকে একটি বৈশ্বিক ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বায়ুমণ্ডলে অধিক পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট।
গবেষকরা জানিয়েছেন, যখন বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসলের ঘনত্ব কম থাকে, তখন জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডল ও পৃথিবীর পৃষ্ঠ—উভয়ের উপরই অধিক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বৃষ্টির ক্ষেত্রে জলীয় বাষ্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে,অ্যারোসল সূর্যালোকের একটি অংশ প্রতিহত করে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে, কিন্তু জলীয় বাষ্প তাপ ধারণের ক্ষমতা বেশি হওয়ায় পরিবেশকে আরও উষ্ণ করে তোলে।
গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশের জলবায়ু গঠনে জলীয় বাষ্প একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীদের মতে, নির্ভরযোগ্য জলবায়ু পূর্বাভাস এবং কার্যকর নীতিনির্ধারণের জন্য জলীয় বাষ্প ও অ্যারোসল উভয় উপাদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন এআরআইইএস-এর ড. উমেশ চন্দ্র দুমকা এবং আইআইএ-এর ড. শান্তিকুমার এস. নিঙ্গোম্বাম। তাঁদের সঙ্গে গবেষণায় অংশ নেন পশ্চিম ম্যাসেডোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দিমিত্রিস জি. কাসকাউটিসিস, আর. ই. পি. সোটিরোপোলু ও ই. তাগারিস এবং সোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. প্রদীপ খাত্রি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য