
সুন্দরবন, ১১অক্টোবর (হি.স.): সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া ধরতে গিয়ে কারও স্বামী বাঘের কবলে পড়ে আর বাড়ি ফিরে আসেন নি। আবার কারও স্বামী জঙ্গলে মধু বা জ্বালানীর কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বাঘের হানায় প্রাণ হারালেও সরকারি সাহায্য মেলেনি এতটুকু। সংসার সামলাতে কেউ লোকের জমিতে দিন মজুরি খাটেন, কেউ বা নিজেই ফের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ, কাঁকড়া বা মধু সংগ্রহ করতে যান বাঘের ডেরায়। প্রতিদিনই জীবন সংগ্রাম করে বাঁচতে হয় তাঁদেরকে, এঁদের অনেকের কাছেই পুজোর আনন্দ অলিক কল্পনা।
অমল নায়েক দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে স্বামীহারা মহিলাদেরকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে নানারকম ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধব, সমাজসেবীদের সঙ্গে নিয়ে। পশু পালন, হাঁস, মুরগির চাষ থেকে শুরু করে আনাজ চাষ, নানা ধরনের হাতের কাজের ব্যবস্থাও করেছেন। পাশাপাশি প্রতি বছরই পুজোর আগে বাঘ বিধবাদের নিয়ে মিলন উৎসব করেন তিনি। অমল বলেন, “ মৃন্ময়ী মাকে পুজো করার আগে এই চিন্ময়ী মা’দের মুখে হাসি ফোটানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। প্রতিবছরই পুজোর আগে বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় প্রায় চারশো বাঘ বিধবা মহিলাদের পুজোর নতুন জামাকাপড়, পরিবারের জন্য একমাসের রেশন, মশারি, সন্তানদের জন্য জামাকাপড় তুলে দিই আমরা।” রবিবার বাসন্তীর শিবগঞ্জে চম্পামহিলা সোসাইটির প্রাঙ্গনে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত চারশোর বেশি স্বজন হারা মহিলাদের হাতে পুজোর উপহার তুলে দেন অমল ও তাঁর সঙ্গীরা।
সেভ টাইগার এফেক্টেড ফ্যামিলি বা এসটিএএফের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করেন অমল ও তাঁর সঙ্গীরা। এবার বাঘ বিধবাদের বাৎসরিক মিলন উৎসবের মঞ্চ থেকে দুটি দাবি তুলেছেন তাঁরা। প্রথমত, সুন্দরবনকে বাঁচাতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা ও দ্বিতীয়ত সুন্দরবনে প্রকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
বাঘের হানায় স্বামী হারানো সবিতা, রেনুকা, একাদশীরা বলেন, “ আমাদের স্বামীদের বাঘে ধরে নিয়ে গেছে, দেহ পর্যন্ত খুঁজে পাইনি। বছরের পর বছর সরকারি দফতরে ঘুরেছি, কিন্তু কোন সরকারি সাহায্য পাইনি। সংসার চালাতে কেউ কেউ সেই জঙ্গলের পথই ধরেছেন, আবার কেউ দিন মজুরি খাটছেন। কেউ বা ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছেন। প্রতিবছরই পুজোর সময় এনাদের থেকে সাহায্য পাই কিছুটা। নতুন সরকার যদি আমাদের দিকে একটু মুখ তুলে দেখেন তাহলে কৃতজ্ঞ হই।”
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা