
ঝাড়্গ্রাম, ১১ অক্টোবর (হি.স.) : জঙ্গলমহলের জনজাতি সংস্কৃতি ও গ্রামবাংলার জীবনযাত্রার টানে শতবর্ষপ্রাচীন দু’টি ভিন্টেজ বেন্টলি গাড়ি নিয়ে ঝাড়গ্রামে ঘুরে গেলেন ব্রিটেনের দুই প্রবীণ পর্যটক। তাঁদের নাম রবার্ট জন উইলকিনসন (৬৪) ও জন রিস ওয়ালটন (৭২)। রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম শহর সংলগ্ন পিয়ালগেড়িয়া গ্রামে পৌঁছন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে থাকা ১৯২৬ সালের দু’টি বিরল বেন্টলি ট্যুরার গাড়ি দেখতে গ্রামবাসীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। গাড়ি দু’টিকে ঘিরে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ কাছ থেকে গাড়ি দেখে ছুঁয়েও দেখেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে গাড়িপ্রেমী ওই দুই ব্রিটিশ নাগরিক ১৯২৬ সালের তৈরি বেন্টলি ট্যুরার গাড়ি দু’টি কেনেন। সেই গাড়ি নিয়েই ইতিমধ্যে কানাডা, আলাস্কা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং নেপাল ভ্রমণ করেছেন তাঁরা। চলতি বছরে মুম্বই বন্দর দিয়ে ভারতে আসার পর গোয়া, কর্নাটক ও ওয়েনাড ঘুরে কলকাতায় পৌঁছন। সেখান থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে ঝাড়গ্রামে আসেন তাঁরা। তবে শুধু ভ্রমণ নয়, জঙ্গলমহলের জনজাতি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগও তাঁদের এই সফরকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তোলে। পিয়ালগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা জয়ন্তী মুর্মুর মাটির বাড়িতে জনজাতি রীতিনীতি মেনে দুই বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানানো হয়। বাড়ির দেওয়ালে আঁকা ঐতিহ্যবাহী চিত্রকর্ম ঘুরে দেখেন তাঁরা। পাশাপাশি মাটির ভাঁড়ে চায়ের স্বাদও নেন। এরপর তাঁদের সামনে পরিবেশন করা হয় জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী ‘লাংড়ে’ ও ‘ডং’ নৃত্য। ধামসা-মাদলের তালে আদিবাসী নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান দুই পর্যটক। এমনকী, উৎসবের আবহে মাদল হাতে নিয়ে নিজেই বাজাতে শুরু করেন রবার্ট। গ্রামের বাসিন্দা ফাগু মান্ডি বলেন, এমন ধরনের গাড়ি তাঁরা আগে কখনও দেখেননি। শতবর্ষপ্রাচীন গাড়ি দু’টিকে একসঙ্গে গ্রামে দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়। আগামী ২৪ অক্টোবর তাঁদের লন্ডনে ফিরে যাওয়ার কথা। তবে ঝাড়গ্রামের মাটির বাড়ি, জনজাতি নৃত্য, ধামসা-মাদলের সুর এবং গ্রামবাসীদের আন্তরিক আতিথেয়তা তাঁদের এই ভারত সফরে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা যোগ করল।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো