
কলকাতা, ১২ অক্টোবর (হি.স.) : নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে সোমবার কলকাতার রাজপথে এক বিশাল বিজয় মিছিল ও জনসভার আয়োজন করে ভারতীয় জনতা পার্টি । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য যৌথভাবে এই বিজয় মিছিলের নেতৃত্ব দেন। উত্তর কলকাতার মুরলিধার সেন লেনের পুরনো রাজ্য কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি ধর্মতলা চত্বরে এসে পৌঁছায় এবং ভিক্টোরিয়া হাউস ও আয়কর ভবনের নিকটবর্তী চত্বরে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চ থেকে বিশিষ্টজনেরা সভা পরিচালনা করেন। এদিনের এই সমাবেশ থেকে আসন্ন পুরভোটের প্রাক্কালে কলকাতা ও হাওড়া শহরের জন্য ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের জোরালো আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিনের এই মিছিলে মুখমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। এছাড়াও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রী এবং উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিধায়ক—হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার এই মিছিলে পা মেলান। মিছিলের শেষে আয়কর ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকারান্তরে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রচারের সূচনা করে দেন। তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আপনারা কেন্দ্রে এবং রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার এনেছেন। এবার আমাদের দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কলকাতা ও হাওড়াতেও ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” তিনি উপস্থিত জনতা ও শহরবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কি কথা দিচ্ছেন, হাওড়া ও কলকাতা আমাদের হাতে তুলে দেবেন? প্রতিটি ওয়ার্ডে পদ্ম ফুল ফুটবে তো?”
উপনির্বাচনের এই অভূতপূর্ব ফলাফল প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কোনো ধরনের রক্তপাত, বোমাবাজি, বুথ দখল, জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর, হিংসা বা আগুন লাগানোর রাজনীতি ছাড়াই বাংলার মানুষ এক বিশাল পরিবর্তন এনে দেখিয়েছে। এই রায় একদলীয় ও একাধিকারবাদী রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মুক্তির বার্তা।” তাঁর দাবি, গত সাড়ে চার মাসের রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাবই এই দুই উপনির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে।
পাশাপাশি, শমীক ও শুভেন্দু—উভয় নেতাই ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান যে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের মতো বিধানসভাগুলিতে সংখ্যালঘু সমাজের ভোটাররাও বিপুল সংখ্যায় বিজেপিকে সমর্থন করেছেন। শুভেন্দু বাবু বলেন, একসময় একটি বিশেষ মহলে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল যে বিজেপি এলে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে, অথচ নির্বাচনে দেখা গেল তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সমাজও মূলস্রোতের উন্নয়নের সঙ্গে সামিল হতে চেয়েছে। বিশেষ করে রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে শাসক দলের প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, ঐতিহাসিক এই বিজয় মিছিলের সভা স্থল নির্বাচন এবং ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার অনুমতি পাওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি ও প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। অতীতে বিভিন্ন সময়—বিশেষ করে গত ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশে পুলিশ প্রশাসন আদালতের নির্দেশ ও নির্দিষ্ট বিধিমালার দোহাই দিয়ে ওই চত্বরে জমায়েত করতে দেয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। এদিনের এই সভা প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোন জাদুবলে এবং কার অনুমতিতে বিজেপি সেখানে মঞ্চ তৈরি করে সভা করল? অপর এক প্রবীণ মন্ত্রী ও নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আইন ভাঙার একটি অবাধ প্রতিযোগিতা চলছে। ওঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাই নিজেদের খেয়ালখুশি মতো আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন।”
অন্যদিকে, সমস্ত রাজনৈতিক সমালোচনা ও বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে। জনরোষে বর্জিত হয়ে আজ তাঁরা দিশেহারা হয়ে নানা আবলতাবল বকছেন, যা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।”
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি