নেতাজি ইন্ডোরে নবনিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলদের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান : রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও চুক্তিভিত্তিক নীতি নিয়ে কঠোর বার্তা মুখ্যসচিবের
কলকাতা, ১২ অক্টোবর (হি.স.) : সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে নবনিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতি
নেতাজি ইন্ডোরে নবনিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলদের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠান : রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও চুক্তিভিত্তিক নীতি নিয়ে কঠোর বার্তা মুখ্যসচিবের


কলকাতা, ১২ অক্টোবর (হি.স.) : সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে নবনিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতি ও কর্মসংস্কৃতির বিরুদ্ধে অত্যন্ত তীব্র ও আক্রমণাত্মক সুর চড়ালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নীতির চরম সমালোচনা করে মুখ্যসচিব বলেন যে, অতীতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ও নির্বিচারে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের ফলে আজ বিভিন্ন সরকারি বিভাগে স্থায়ী পদের এক গুরুতর ও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, সাধারণ মানুষের পূর্ণ আস্থা ও ভরসা অর্জন করাটাই তাঁদের পেশাগত জীবনের সর্বাগ্রে এবং প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত।

রাজ্যের স্থায়ী পদের সংকট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যসচিব জানান যে, প্রকৃত নিয়ম ও প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী রাজ্যে অন্তত ১০ লক্ষ স্থায়ী সরকারি কর্মী থাকা উচিত ছিল, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে তা কমে মাত্র ৫ লক্ষ ৫০ হাজারে এসে ঠেকেছে। তাঁর মতে, অতীতে নির্বাচন পরিচালনার মতো বড় প্রশাসনিক কাজের সময় কর্মীদের এই চরম অভাবের যন্ত্রণা তিনি অত্যন্ত গভীরভাবে অনুভব করেছেন। পরিস্থিতি এমন এক সংকটজনক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছিল যে, নির্বাচন বা জরুরি কাজে অন্য রাজ্য থেকে কর্মী ধার করে আনার কথা পর্যন্ত প্রশাসনিক স্তরে চিন্তা করতে হয়েছিল।

পূর্ববর্তী সরকারের শাসনকালের মূল কাজের ধরন সম্পর্কে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আমরা দেখেছি যে প্রায় প্রতিটি সরকারি কাজই ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তির ভিত্তিতে বা কন্ট্র্যাকচুয়ালে রাখা হতো। সেইসব শ্রমিক বা কর্মীরা নিজেরাও নিশ্চিত ছিলেন না যে পরের দিন সকালে তাঁদের চাকরিটা থাকবে কি না। স্বাভাবিকভাবেই, এই ধরনের অস্থায়ী কর্মচারীদের কাজের প্রতি কোনো দীর্ঘমেয়াদী জবাবদিহিতা বা দায়বদ্ধতা ছিল না।”

বর্তমান সরকারের নীতি ও স্বচ্ছ অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যসচিব বলেন যে, রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন সংবিধানের নিয়মকে পুরোপুরি অনুসরণ করে সমস্ত শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেবল এবং কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)-এর মাধ্যমেই সম্পন্ন করবে। তিনি জানান, পিএসসি-র চেয়ারম্যানকে অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মুখ্যসচিব বা খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশেও যেন কাউকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত বা অবৈধ সুবিধা দেওয়া না হয়।

অতীতে পুলিশ প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “মধ্যবর্তী ছ’ থেকে সাত বছরের একটি সময় এমন ছিল যখন সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে কোনো ভালো ধারণা বা আস্থা ছিল না। আমি অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে বলতে চাই যে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশের ওপর অযৌক্তিক ও অনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল।” নবনিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর কড়া বার্তা, আপনাদের এমন আপসহীন সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে অপরাধী ও সমাজবিরোধীরা যেকোনো বেআইনি কাজ করার আগে ভয় পায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande