
হাফলং (অসম), ১৩ অক্টোবর (হি.স.) :
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুবিন গর্গ্যের রহস্যমৃত্যুর মামলায় অভিযুক্ত অমৃতপ্রভা মহন্ত মঙ্গলবার সকালে হাফলং উপ-কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন। গুয়াহাটি হাইকোর্টের পক্ষ থেকে শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এদিন তাঁকে কারামুক্ত করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অমৃতপ্রভা মহন্তের পরিবারের তিনজন সদস্য গত সোমবার বিকেলে হাফলং পৌঁছন। এর পরেই কারা কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে মুক্তির জন্য সমস্ত নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণরূপে শেষ না হওয়ায় সেদিন তাঁকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি, নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করার কারণেও সে দিন তাঁকে কারাগার থেকে বাইরে আনা হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে অমৃতপ্রভা মুক্তি পেতে পারেন—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বহু সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিক হাফলং উপ-কারাগারের সামনে ভিড় জমান।
অবশেষে সোমবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ অমৃতপ্রভা মহন্তের পরিবারের তিন সদস্য কারাগার চত্বর থেকে বের হয়ে যান। এরপর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছ’টার সময় সমস্ত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে মুক্তি দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গুয়াহাটি হাইকোর্ট ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে অমৃতপ্রভা মহন্তকে শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করেছিল। তবে আদালতের জামিনের নির্দেশ জারি হওয়ার পরেও কারাগার থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়।
অমৃতপ্রভা মহন্তের এই মুক্তির মধ্য দিয়ে বর্তমান পর্বে তাঁর কারাবাসের অবসান ঘটল। তবে আইনি মহলের মতে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি বা অভিযোগ থেকে দায়মুক্ত হয়ে গিয়েছেন। মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া যথারীতি নিয়মমাফিক চলবে। গুয়াহাটি হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করার সময় যে সমস্ত শর্ত বেঁধে দিয়েছে, সেগুলি কঠোরভাবে মেনে চলা তাঁর পক্ষে বাধ্যতামূলক।
জুবিন গর্গ্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অসমজুড়ে যখন জনমনে আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে, তখন এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত অমৃতপ্রভা মহন্তের জামিনে মুক্তির ঘটনাটি নতুন করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব