
কলকাতা, ১৩ অক্টোবর (হি.স.) : রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলন কর্মসূচি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সূচিতে অংশ নেওয়ার পর অবশেষে মঙ্গলবার দুর্গাপূজার সার্বজনীন উৎসবে শামিল হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পবিত্র তৃতীয়ার সন্ধ্যায় তিনি তাঁর নিজ গৃহ এলাকা সংলগ্ন ‘কালীঘাট মিলন সঙ্ঘ’-এর দুর্গাপূজার শুভ উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, বিগত ১৫ বছর ধরে রাজ্যজুড়ে শারদোৎসবের দিনগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ও ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কলকাতার একাধিক হেভিওয়েট ও বড় দুর্গাপূজা মণ্ডপের ফিতে কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতেন। প্রাথমিক দিনগুলিতে মহালয়ার পর থেকে পূজামণ্ডপ উদ্বোধনের ধুম শুরু হলেও, পরবর্তীতে ব্যস্ত সফরসূচি ও ক্রমবর্ধমান আবেদনের কারণে মহালয়ার আগেই তিনি শহরের বহু মণ্ডপ উদ্বোধনের ধারা সূচনা করেছিলেন।
তবে চলতি বছরে দুর্গাপূজার শুভ লগ্নে তাঁর উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। গত শুক্রবার রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি দিল্লি পৌঁছান এবং মহালয়ার দিনটিও তাঁর দিল্লি সফরেই অতিক্রান্ত হয়। এই সফরকালে দিল্লিতে আয়োজিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁকে বাধা দেওয়ার খবরও সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল। অতঃপর মঙ্গলবার তিনি কলকাতায় ফিরে এসেই সরাসরি নিজ এলাকার এই পুজো উদ্বোধনের মঞ্চে উপস্থিত হন।
কালীঘাট মিলন সঙ্ঘের পূজামণ্ডপটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদম নিজস্ব এলাকায় অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী সাধারণ শাড়ি পরিহিত অবস্থায় এদিন তিনি মণ্ডপে পৌঁছান এবং প্রথা মেনে ফিতে কেটে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তাঁর এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবে তাঁর জনসমক্ষে উপস্থিতি ফের নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চায় উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত স্মরণযোগ্য, বিগত বছরগুলিতে মহালয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক একের পর এক পূজামণ্ডপ উদ্বোধনের এই আগাম রীতি নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ও ধর্মানুষ্ঠানিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলনেতা এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই ইস্যুতে একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি