



খড়্গপুর, ২২ অক্টোবর (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুর শহরে চিরাচরিত আড়ম্বর ও ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী দশেরা উৎসব ও রাবণ দহন। এ বছর খড়্গপুরের নিউ সেটেলমেন্টের ঐতিহাসিক রাবণ ময়দানে উৎসবের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল এক লক্ষ ভক্তের কণ্ঠে সম্মিলিত হনুমান চালিসা পাঠ। দশেরা উদযাপন কমিটির ১০২তম বর্ষে এই প্রথম এত বড় পরিসরে গণ হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
স্থানীয় আজাদ বয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে ময়দানে ৫৫ ফুট উঁচু রাবণের সুবিশাল প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। উপস্থিত ভক্তরা তুমুল উদ্দীপনার সঙ্গে সমস্বরে হনুমান চালিসা পাঠ করেন। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক মহিলা ও তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। হনুমান চালিসা পাঠের পর ঐতিহ্য মেনে আতশবাজির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় রাবণ দহন পর্ব।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, দশেরা উদযাপন কমিটির এই যৌথ হনুমান চালিসা পাঠের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনার সঞ্চার ঘটাবে এবং শহরের সামাজিক পরিবেশে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
দশেরা উদযাপন কমিটির সম্পাদক অভিষেক যাদব জানান, একসঙ্গে এক লক্ষ কণ্ঠে হনুমান চালিসা পাঠ খড়্গপুরের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। এবারের আয়োজন শুধুমাত্র প্রথাগত রাবণ দহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এক ভাবগম্ভীর আধ্যাত্মিক মহামিলনে রূপ নিয়েছে।
এদিনের সমারোহে মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া, খড়্গপুর ডিভিশনের ডিআরএম ললিত মোহন পান্ডে সহ প্রশাসনিক আধিকারিক, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে ভক্তদের সঙ্গে হনুমান চালিসা পাঠে অংশ নেন। খড়্গপুরের ঐতিহাসিক রাবণ ময়দানে এই বিশাল আয়োজন দেখতে জেলা ও সংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ