রেশনে সুজি-ময়দা নিয়ে শোরগোল, বিরোধীদের বিঁধলেন খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত
আগরতলা, ২৫ অক্টোবর (হি.স.) : কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে রাজ্যের রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলির মধ্যে বিনামূল্যে সুজি, ময়দা ও চিনি বন্টনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে খাদ্য দফতরের প্রস্তুতি ও বন্টন প্র
খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী


আগরতলা, ২৫ অক্টোবর (হি.স.) : কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে রাজ্যের রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলির মধ্যে বিনামূল্যে সুজি, ময়দা ও চিনি বন্টনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে খাদ্য দফতরের প্রস্তুতি ও বন্টন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির কথা তুলে ধরলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। তাঁর দাবি, রাজ্যের ৫৯ শতাংশ রেশন দোকানে ইতিমধ্যেই সুজি ও ময়দা পৌঁছে গিয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রাজ্যের সর্বত্র এই দুই সামগ্রী বন্টনের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী পাঁচ থেকে দশ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত রেশন দোকানে চিনি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

লক্ষ্মীপুজোকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারের এই বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বন্টন কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। রেশন দোকানে সামগ্রী না পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের অভিযোগের বিরোধিতা করে খাদ্যমন্ত্রীর দাবি, কিছু সিপিআই(এম)নেতা রেশন দোকানে খাদ্যসামগ্রী নেই বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্য, বন্টন প্রক্রিয়া চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত ভোক্তার কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রবিবার খাদ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৯ লক্ষ ৯২ হাজার রেশন কার্ডধারী পরিবারকে বিনামূল্যে এই খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার পাবে দুই কেজি ময়দা, এক কেজি চিনি এবং ৫০০ গ্রাম সুজি। এই প্রকল্পের আওতায় কোনও নির্দিষ্ট শ্রেণির রেশন কার্ডধারীদের সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। এপিএল, বিপিএল, প্রায়োরিটি গ্রুপ এবং অন্ত্যোদয়—সব শ্রেণির রেশন কার্ডধারী পরিবারই এই সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তবে বন্টন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সুজি ও ময়দা ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫৯ শতাংশ রেশন দোকানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি দোকানগুলিতেও দ্রুত এই দুই সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। আগামী তিন চার দিনের মধ্যে সর্বত্র সুজি ও ময়দা বন্টন সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব পরিবার এখনও এই সামগ্রী পায়নি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

চিনি বণ্টনের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগছে বলে স্বীকার করেছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর ব্যাখ্যা, চিনি বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। সেই কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা সময় লাগছে। তবে ইতিমধ্যেই চিনি বন্টনের কাজ শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আগামী পাঁচ থেকে দশ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত রেশন দোকানে চিনি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সুজি ও ময়দার তুলনায় চিনি সরবরাহ সম্পূর্ণ করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এদিকে, খাদ্যসামগ্রী বন্টন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের আবহে বিরোধী নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে কয়েকজন বিরোধী নেতা মিথ্যা দাবি করছেন। এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিন খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বন্টনের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনীতি না করে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে সংবাদ পরিবেশন করা উচিত। তাঁর মতে, বন্টন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, সরবরাহের অবস্থা এবং সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা বিবেচনা করেই এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে রাজ্যের প্রায় ৯ লক্ষ ৯২ হাজার রেশন কার্ডধারী পরিবারের কাছে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও জারি রয়েছে। সরকারের তরফে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বন্টন সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, বাস্তবে কত দ্রুত সমস্ত ভোক্তার হাতে সুজি, ময়দা ও চিনি পৌঁছায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সাধারণ মানুষের।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande