নাম না করে মন্ত্রী অর্জুন সিংকে নিশানা বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর
বারাকপুর, ২৬ অক্টোবর (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক ও আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের নাম না ক
নাম না করে মন্ত্রী অর্জুন সিংকে নিশানা বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর


বারাকপুর, ২৬ অক্টোবর (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গের বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ভারতীয় জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক ও আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের নাম না করে তাঁকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন।

ঘটনাটি টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা হত্যা মামলার অভিযুক্তদের অর্জুন সিংয়ের মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অসন্তোষ প্রকাশ করে কৌস্তভ বলেন যে, মণীশ শুক্লার হত্যায় অভিযুক্তদের নিজের দলের কিছু মানুষের সঙ্গে দেখা ভালো লাগছে না। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি, তবে বেশ কিছু ছবি দেখিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কৌস্তভ বাগচী বারাকপুরের প্রাক্তন পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরীর বিজেপিতে যোগদানের জল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান যে, তিনি এই দুজনকে বিজেপিতে প্রবেশ করতে দেবেন না। নিজের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, তিনি সাড়ে তিন বছর ধরে মাথা মুণ্ডন করে ছিলেন। সেই সময় অনেকে তাঁর উপহাস করেছিলেন, কিন্তু তিনি সংকল্প নিয়েছিলেন যে, যতক্ষণ না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়, ততক্ষণ তিনি মাথায় চুল রাখবেন না।

এই সময়ে আক্রমণাত্মক সুর চড়িয়ে কৌস্তভ বলেন যে, প্রয়োজনে তিনি বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ের সামনে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেবেন। তাঁর এই মন্তব্যে বারাকপুরের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, কৌস্তভের অভিযোগের বিষয়ে অর্জুন সিং বেশি প্রতিক্রিয়া দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, তিনি জানেন রাজনীতি কীভাবে করতে হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে টিটাগড়ে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে মণীশ শুক্লাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ড সেই সময় বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মামলার তদন্তে বাইরে থেকে সুপারি কিলার ডেকে হত্যা করানোর বিষয়টি সামনে আসে। কৌস্তভের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের এখন বিজেপির কিছু নেতা ও কার্যকর্তার সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করতে দেখা যাচ্ছে।

কৌস্তভ বাগচী এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মণীশ শুক্লা হত্যা মামলাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। এ ব্যাপারে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্য সচিব, অপরাধ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ বারাকপুরে বিজেপির অন্দরে চলা মতভেদকে জনসমক্ষে এনে দিয়েছে। কৌস্তভ বাগচী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে অর্জুন সিংয়ের সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, কৌস্তভ তাঁর অবস্থানে কতদিন অনড় থাকেন এবং দলীয় নেতৃত্ব এই বিবাদ মেটাতে কী পদক্ষেপ নেয়।

--------

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande