রিচার্জ বন্ধ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন! কুমারঘাটে নিগমের অফিসে গ্রাহকদের বিক্ষোভ
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২৬ অক্টোবর (হি.স.) : প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ নেই, বন্ধ অনলাইন পরিষেবাও। রিচার্জের অভাবে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, অথচ সরকারি ছুটিতে তালাবন্ধ বিদ্যুৎ নিগমের রিচার্জ কাউন্টার। একদিকে বিদ্যুৎহীনতার যন্ত্রণা, অন্যদিকে রিচার্জ করাতে
বিদ্যুৎ নিগমে বিক্ষোভ


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২৬ অক্টোবর (হি.স.) : প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ নেই, বন্ধ অনলাইন পরিষেবাও। রিচার্জের অভাবে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, অথচ সরকারি ছুটিতে তালাবন্ধ বিদ্যুৎ নিগমের রিচার্জ কাউন্টার। একদিকে বিদ্যুৎহীনতার যন্ত্রণা, অন্যদিকে রিচার্জ করাতে গিয়ে চরম হয়রানি। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রাহকরা। সোমবার কুমারঘাট বিদ্যুৎ নিগমের সাব-ডিভিশন অফিসের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন কুমারঘাট, ফটিকরায়-সহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের চাপের মুখে চালু করা হয় অনলাইন রিচার্জ পরিষেবা।

ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ ব্যবস্থা নতুন করে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় বহু গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে রিচার্জের জন্য বিদ্যুৎ নিগমের অফিসে ছুটে যান তাঁরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সরকারি ছুটির কারণে রিচার্জ কাউন্টার বন্ধ। অন্যদিকে, বন্ধ ছিল অনলাইন রিচার্জ পরিষেবাও। ফলে চরম বিপাকে পড়েন গ্রাহকরা।

বিদ্যুতের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি তাঁরা। বিদ্যুৎ নিগমের কুমারঘাট সাব-ডিভিশন অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটার চালু থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে রিচার্জ করার ব্যবস্থা সচল না থাকলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন? সরকারি ছুটির দিনে কাউন্টার বন্ধ থাকতেই পারে, কিন্তু অনলাইন পরিষেবাও বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহকদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।

বিক্ষোভ চলাকালীন রাজ্য সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও বিধায়কদেরও নিশানা করেন গ্রাহকরা। তাঁদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ পরিষেবার এমন পরিস্থিতি কি সরকারের নজরে আসে না? সাধারণ মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কার্যত থমকে যায়। পড়াশোনা, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বিভিন্ন জরুরি কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে। অথচ পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষকে কেন বারবার হয়রানির শিকার হতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। গ্রাহকদের কটাক্ষ, মন্ত্রী-বিধায়কদের নিজেদের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলে হয়তো তাঁরা সাধারণ মানুষের সমস্যার গুরুত্ব বুঝতে পারতেন।

প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা বন্ধ করে আগের মতো পোস্টপেইড মিটার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। রিচার্জ শেষ হয়ে গেলেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তার পরেও রিচার্জ করতে গিয়ে এমন সমস্যার মুখে পড়তে হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। গ্রাহকদের বক্তব্য, প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা চালু করার আগে তা নিরবিচ্ছিন্নভাবে সচল রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে, গ্রাহকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিদ্যুৎ নিগমের কুমারঘাট সাব-ডিভিশন অফিস চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কুমারঘাট থানার ওসি সঞ্জয় দাস। শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের চাপের মুখে অনলাইন রিচার্জ পরিষেবা চালু করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তবে পরিষেবা চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হলেও প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ যে এখনও তীব্র, তা এদিনের বিক্ষোভে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ নিগমের রিচার্জ পরিষেবা সচল রাখা, সরকারি ছুটির দিনেও জরুরি পরিষেবার বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ করার দাবি উঠেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করাই এখন বিদ্যুৎ নিগমের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande