
আগরতলা, ২৭ অক্টোবর (হি.স.) : নগরবাসীর চাহিদা পূরণ এবং নাগরিক পরিষেবাকে আরও উন্নত ও সুষ্ঠু করে তুলতে শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আগরতলা পুর নিগম। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরিত্যক্ত জলাশয় সংস্কার, সৌন্দর্যায়ন এবং সেগুলিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে এবার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়ন কাজের সূচনা হলো। মঙ্গলবার শাস্ত্রীয় রীতি মেনে ভূমি পূজন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিমানী দেববর্মা, পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ভূমি পূজনের মাধ্যমে উন্নয়নকাজের সূচনা করে মেয়র বলেন, শহরবাসীর দাবি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েই আগরতলা শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান পুর নিগম।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপক মজুমদার জানান, ২০২১ সালে বিজেপি পরিচালিত আগরতলা পুর নিগমের প্রশাসন গঠিত হওয়ার পর থেকেই শহরকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার পরিত্যক্ত জলাশয়গুলিকে সংস্কার করে সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি সেগুলিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জলাশয়ের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নগর উন্নয়ন বলতে শুধুমাত্র সৌন্দর্যায়ন নয়, নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত মৌলিক পরিষেবাগুলির উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই আগরতলা শহরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বেশ কিছু পুরনো ও জীর্ণ ওয়ার্ড কার্যালয়ের পরিবর্তে নতুন পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে নাগরিক পরিষেবা প্রদান এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মেয়রের বক্তব্যে উঠে আসে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জলাশয়গুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার মাধ্যমে নগর পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে পুর নিগমের। মহিলা মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন জলাশয়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগও সেই পরিকল্পনারই অংশ। এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি শহরের সামগ্রিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন পূর্ববর্তী পুর নিগম পরিচালকদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন দীপক মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন পরিচালকেরা আগরতলা পুর নিগমের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনামাফিক কাজ করেননি। বর্তমান পুর নিগম প্রশাসন শহরের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি, আগরতলা শহরের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার সক্রিয় উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন মেয়র। তাঁর বক্তব্য, শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে আগরতলাকে আরও উন্নত ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুর নিগম কাজ করছে।
সব মিলিয়ে, মহিলা মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন পরিত্যক্ত জলাশয়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের সূচনা শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগে নতুন সংযোজন। তবে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করে জলাশয়টিকে কতটা কার্যকর ও নাগরিকদের উপযোগী করে তোলা যায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ