
আগরতলা, ২৭ অক্টোবর (হি.স.) : প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই নরসিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার এই উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নের ফলে বর্তমানে রোগীদের বহিঃরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে রোগীদের রেফার প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সাধারণ মানুষের আরও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার মানুষ যাতে নিজেদের এলাকাতেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। নরসিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগও সেই পরিকল্পনারই অংশ।
মঙ্গলবার নরসিংগড়ে আয়োজিত ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, স্বাস্থ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে, পশ্চিম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শংকর চক্রবর্তী-সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে নতুন এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নরসিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোগত উন্নয়নও তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। নরসিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সুবিধা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার অতীত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটা সময় ছিল যখন গুরুতর অসুস্থ রোগীর চিকিৎসার জন্য বহু পরিবারকে বাড়িঘর বিক্রি করে পর্যন্ত বহিঃরাজ্যে যেতে হতো। উন্নত চিকিৎসার আশায় পরিবারগুলিকে আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এখন রাজ্যের মধ্যেই বহু রোগের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির ফলে রোগীদের অন্যত্র রেফার করার ঘটনা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবার সম্প্রসারণেরই প্রতিফলন। তবে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত করতে সরকারকে আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু বড় শহর বা জেলা হাসপাতালকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষও যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ-সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যেমন এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, তেমনই স্বাস্থ্যকর্মীরাও মানুষের পাশে থেকে পরিষেবা প্রদানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
সামগ্রিকভাবে, নরসিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ