বরাক সেতুতে লাইনচ্যুত শিলচর–গুয়াহাটি ট্রেনের ইঞ্জিন, অল্পের জন্য রক্ষা বড় দুর্ঘটনা
বদরপুরে রেল চলাচলে বিঘ্ন, একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন নিয়ন্ত্রণ; দুপুর ২টো নাগাদ মেরামতির পর স্বাভাবিক পাহাড় লাইনে ট্রেন চলাচল
NVR 2


NVR 1


হাফলং (অসম), ২৯ অক্টোবর (হি স): ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিলচর–গুয়াহাটি যাত্রীবাহী ট্রেন। বৃহস্পতিবার সকালে বদরপুরের বরাক সেতুর উপর ট্রেনটির ইঞ্জিনের সামনের ট্রলি লাইনচ্যুত হওয়ায় লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ঘটনার জেরে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে। তবে দ্রুত উদ্ধার ও মেরামতির কাজ চালিয়ে দুপুর ২টো নাগাদ রেলপথ সচল করে তোলা হয়। এর পরেই লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উত্তর পূৰ্ব সীমান্ত রেলের পক্ষ থেকে ২৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, ১৫৬১৬ নম্বরের শিলচর–গুয়াহাটি যাত্রীবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিনের সামনের ট্রলি সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে বদরপুর–সুকৃতিপুর অংশের ১৬৬/৭ কিলোমিটার পয়েন্টে ৩৬৫ নম্বর বরাক সেতুর উপর লাইনচ্যুত হয়। চালক সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে বদরপুর থেকে যাত্রা শুরু করার পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনার কথা জানান।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী ব্যবস্থা সক্রিয় করে রেল কর্তৃপক্ষ। সকাল ৯টায় দুর্ঘটনাস্থলে চিকিৎসা-সহায়ক সরঞ্জাম পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ডাকা হয় দুর্ঘটনা মোকাবিলার বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রেন। সেটি সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে বদরপুর থেকে রওনা হয়ে ৯টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বরাক সেতুর উপর ইঞ্জিনের সামনের ট্রলি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। তবে ট্রেনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়া থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়। কী কারণে ইঞ্জিনের সামনের ট্রলি লাইনচ্যুত হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেললাইনে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। ঘটনার জেরে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রেলওয়ের বুলেটিন অনুযায়ী, ১৫৬১৬ নম্বরের শিলচর–গুয়াহাটি যাত্রীবাহী ট্রেনটির যাত্রা বদরপুরেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বদরপুর থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত ট্রেনটির নির্ধারিত যাত্রা আংশিক বাতিল করা হয়। অন্যদিকে, রেকের অভাবে ১৫৬১৫ নম্বরের গুয়াহাটি–শিলচর ট্রেনটির ২৯ অক্টোবরের যাত্রা বাতিল করা হয় বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া ১৩১৭৫ নম্বরের শিয়ালদহ–শিলচর ট্রেনটিকে নিউ হাফলঙে, ১৩১২৬ নম্বরের শিয়ালদহ–আগরতলা ট্রেনটিকে বদরপুরে এবং ১৫৬৬০ নম্বরের আগরতলা–লোকমান্য তিলক টার্মিনাস ট্রেনটিকে নিউ করিমগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৩১৭৪ নম্বরের আগরতলা–শিয়ালদহ ট্রেনটিকে ধর্মনগরে এবং ১৩১২৫ নম্বরের শিয়ালদহ–আগরতলা ট্রেনটিকে লামডিংয়ে নিয়ন্ত্রণ করার কথাও বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়।

সকালের দুর্ঘটনার পর রেলপথ মেরামতি ও উদ্ধারকাজ চালানো হয়। দুপুর ২টো নাগাদ মেরামতির কাজ শেষ হলে লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করে তোলা হয়। দুর্ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে বিঘ্নিত রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমার আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথ দক্ষিণ অসমের পাশাপাশি ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রেলপথে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণে তার প্রভাব পড়ে। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ফের এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande