
হুগলি,৩০ অক্টোবর (হি.স.): নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া, ব্যাপক ক্ষতির মুখে আরামবাগের ধানচাষিরা। গত দু'দিন ধরে নিম্নচাপ অর্ণবের প্রভাবে আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবিরাম বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত কৃষিকাজ। বিশেষ করে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ধানচাষে।
কৃষকদের দাবি, এবারের দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গোবিন্দভোগ ধান। ঝড়ো হাওয়ার দাপটে অধিকাংশ জমিতেই পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। তার উপর বৃষ্টির জলে ডুবে রয়েছে ধানের জমি। ফলে ধান পচে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ ও পোকার আক্রমণের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অন্যদিকে, এই সময়ে পাকা আউশ ধানও ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণ ধানের ফলনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উল্লেখ্য, গত মরশুমেও আলুচাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন মহকুমার কৃষকরা। সেই ক্ষতির ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই নতুন মরশুমের শুরুতে ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগে কার্যত দিশেহারা তাঁরা। অনেক কৃষকের আশঙ্কা, সরকারি আর্থিক সাহায্য না পেলে এই ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই বহু কৃষক আগামী মরশুমে চাষ না করার কথাও ভাবতে শুরু করেছেন।
কৃষকদের একাংশের কথায়, বছরের পর বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ফসলের ক্ষতির বোঝা বইতে বইতে তাঁরা ক্লান্ত। এখন সরকারি সাহায্যই তাঁদের একমাত্র ভরসা।
এদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর আরামবাগ মহকুমার পুড়শুড়ায় আসার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সেখানে একগুচ্ছ কৃষি প্রকল্পের উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন মহকুমার কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কোনও বিশেষ আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা। কৃষকদের একটাই প্রশ্ন, ফসলের ক্ষতির এই কঠিন পরিস্থিতিতে সরকারি সাহায্যের হাত কি তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াবে? মুখ্যমন্ত্রীর সফরে সেই প্রশ্নের উত্তর মেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ সাঁতরা