
কলকাতা, ৩০ অক্টোবর (হি.স.) : ভুটানে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদ ফেটে আকস্মিক হড়পা বানের কারণে উত্তরবঙ্গে এক চরম জলপ্রলয়ের আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছিল। তবে রাজ্য প্রশাসনের সময়োচিত ও কড়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলা বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। শুক্রবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, আপাতত ভয়ের কোনো কারণ নেই এবং উত্তরবঙ্গের সমস্ত মানুষ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রয়েছেন।
সল্টলেকে আয়োজিত বিশেষ ‘মুখ্যমন্ত্রী দরবার’ অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতার পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী এই কথা জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ সুপার, মন্ত্রী ও বিধায়করা সারারাত জেগে ভোর চারটা পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। পাশাপাশি, রাজ্য সচিবালয় নবান্নের মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গেও গোটা রাত ধরে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সংকোষ নদীর জলস্তর বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া শুরুতে বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকার যে আতঙ্কজনক খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেই বিভ্রান্তিও কেটে গেছে। যে ৪৭ জন ব্যক্তির সঙ্গে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, তাঁদের সকলের সঙ্গেই সফলভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁরা প্রত্যেকেই নিরাপদে আছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলায় একটি বিশাল হিমবাহ ভেঙে শিনতাফু হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধটি ধসে পড়েছিল। এই ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’-এর ফলে রাতের অন্ধকারে গাসা তশাচু অঞ্চলের একাধিক পাকা ও কাঁচা পরিকাঠামো ভেসে যায়। ওই হ্রদের বিপুল পরিমাণ জল ভুটানের মাফু নদী হয়ে ভারতের সংকোষ নদীর দিকে অত্যন্ত দ্রুতবেগে ধেয়ে আসতে শুরু করেছিল, যার জেরে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির তীব্রতা অনুধাবন করে ভুটান সরকার তৎক্ষণাৎ পশ্চিমবঙ্গ ও অসম প্রশাসনকে হাই-অ্যালার্ট বা চরম সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল। এই আশঙ্কার কথা জানতে পেরেই রাজ্য প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করে এবং আলিপুরদুয়ারের প্রায় ১২ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের জন্য অস্থায়ী শিবিরগুলিতে পানীয় জল এবং পর্যাপ্ত খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছিল।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, সরকারি স্তরে সময়মতো নেওয়া এই তৎপরতার ফলেই কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং ওই এলাকার প্রতিটি নাগরিক এখন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি