বন্ধ রেলগেট ভেঙে রেললাইনে হাতি, অল্পের জন্য এড়াল বড় দুর্ঘটনা
ঝাড়গ্রাম, ৩১ অক্টোবর ( হি. স.): জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বন্ধ রেলগেট। শেষ পর্যন্ত সেই বাধা সরাতে ধাক্কা মেরে রেলগেট ভেঙেই রেললাইনে উঠে পড়ল একটি বুনো দাঁতাল হাতি। কিছুক্ষণ রেললাইনের উপর ঘোরাঘুরি করে অন্য পাশের রেলগে
বন্ধ রেলগেট ভেঙে রেললাইনে হাতি, অল্পের জন্য এড়াল বড় দুর্ঘটনা


ঝাড়গ্রাম, ৩১ অক্টোবর ( হি. স.): জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বন্ধ রেলগেট। শেষ পর্যন্ত সেই বাধা সরাতে ধাক্কা মেরে রেলগেট ভেঙেই রেললাইনে উঠে পড়ল একটি বুনো দাঁতাল হাতি। কিছুক্ষণ রেললাইনের উপর ঘোরাঘুরি করে অন্য পাশের রেলগেট ডিঙিয়ে কংসাবতী নদীর দিকে চলে যায় হাতিটি। শনিবার ভোররাতের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ঝাড়গ্রামের সরডিহা ও বাঁশতলা রেল স্টেশনের মাঝের রাসুয়া রেলগেট এলাকায়। তবে হাতির ধাক্কায় রেলগেট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্রেন চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালেই ভাঙা রেলগেট মেরামত করা হয়। বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে খড়্গপুর বন বিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জ থেকে বেলতলা হয়ে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের মানিকপাড়া রেঞ্জের কুসুমঘাঁটি বিটের রাসুয়া এলাকায় ঢোকে হাতিটি। শনিবার ভোররাত প্রায় তিনটে নাগাদ লালগেড়িয়া-রাসুয়া রেলগেটের কাছে পৌঁছয় সে। সেই সময় রেলগেট বন্ধ থাকায় এগোতে পারেনি হাতিটি। এরপর আপ লাইনের পাশের রেলগেটটিতে ধাক্কা মেরে সেটি ভেঙে রেললাইনে উঠে পড়ে। কিছুক্ষণ লাইনের উপর এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করার পর ডাউন লাইনের পাশের গেট ডিঙিয়ে কংসাবতী নদীর দিকে চলে যায়। বন দফতর সূত্রে খবর, নদী পেরিয়ে হাতিটি ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর বন বিভাগের চাঁদড়া রেঞ্জে ঢুকে পড়েছে। রাসুয়া রেলগেটের গেটম্যান জানান, হাতিটিকে আসতে দেখেই নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি ভিতরে চলে যান। পাশাপাশি রেলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দিয়ে ট্রেনের গতি কমানোর অনুরোধ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘রেলগেট ভেঙে হাতিটি লাইনের উপর দু’বার ঘোরাঘুরি করে চলে যায়। হাতিটি আসার আগে আপ ও ডাউন, দু’টি লাইন দিয়েই মালগাড়ি গিয়েছিল। তবে হাতিটি যখন রেললাইনে ওঠে, তখন কোনও ট্রেন ছিল না।’’ খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিশান্ত কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাতির ধাক্কায় রেলগেট ভেঙেছে ঠিকই, তবে ট্রেন চলাচলে কোনও সমস্যা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ট্রেন চলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেলগেটটি মেরামতও করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ জুলাই বাঁশতলা রেল স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় দু’টি শাবক-সহ একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী হাতির মৃত্যু হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর খড়্গপুর থেকে টাটানগর পর্যন্ত রেললাইনের দু’পাশে লোহার রেলিং বসিয়ে ঘিরে দেওয়ার কাজ শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে হাতির যাতায়াতের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আপত্তি জানায় বন দফতর। পরে সরডিহা থেকে বাঁশতলা স্টেশনের মধ্যবর্তী হাতি চলাচলের একাধিক পথ থেকে রেলিং সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও রেললাইনের অন্যান্য জায়গায় এখনও রেলিং রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসার সময় রেললাইনের পাশের লোহার রেলিং এবং বন্ধ রেলগেটের কারণে বাধার মুখে পড়ে হাতিটি। শেষ পর্যন্ত রেলগেট ভেঙেই যাতায়াতের পথ তৈরি করে নেয় সে। বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, হাতিটির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আচমকা জঙ্গল থেকে হাতি বেরিয়ে আসার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande