
নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবর (হি.স.) : শীতের মরশুমে দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ১ নভেম্বর থেকে একাধিক বিশেষ বিধিনিষেধ কার্যকর করতে চলেছে দিল্লি সরকার। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। নিয়ম কার্যকর করতে পরিবহণ দফতর, দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ, দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিপিসিসি), পুরসভা-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার পরিবেশ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির বাইরে নথিভুক্ত বিএস-৪ এবং তার চেয়ে পুরনো নির্গমন মানের মোটরযান রাজধানীতে চলাচল করতে পারবে না। তবে সিএনজি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন, অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল, পুলিশ এবং বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট ছাড়প্রাপ্ত যান এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।একই সময়সীমায় ধুলিকণা ছড়াতে পারে, এমন সমস্ত বহিরাঙ্গন নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে প্রয়োজনীয় সরকারি পরিকাঠামো প্রকল্পে ছাড় দেওয়া হবে। নির্মাণস্থলের ভিতরে ফিনিশিং, প্লাম্বিং ও বৈদ্যুতিক সংযোগের মতো কাজ ধুলিকণা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে চালানো যাবে। এর পাশাপাশি, ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সমস্ত ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও বাড়ছে খরচ। ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার ফি দ্বিগুণ করা হবে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং কেন্দ্রগুলিকে এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।সরকারি ও বেসরকারি অফিসের ক্ষেত্রেও কর্মী উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অফিসে সর্বাধিক ৫০ শতাংশ কর্মীর সরাসরি উপস্থিতি থাকতে পারবে। বাকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় থাকবে। যানজটের চাপ কমাতে দিল্লি পুরসভার অফিস সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং দিল্লি সরকারের অফিস সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। দিল্লির প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ (এএনপিআর) ক্যামেরার মাধ্যমে নিষিদ্ধ যানবাহন চিহ্নিত করা হবে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট যানগুলির বিরুদ্ধে চালান জারি করা হবে। পাশাপাশি দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি বাজেয়াপ্ত-সহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। পরিবহণ দফতর ও ট্র্যাফিক পুলিশের বিশেষ দলও রাস্তায় যানবাহন পরীক্ষা করবে।নির্মাণস্থলগুলিতে নজরদারির জন্য ডিপিসিসি, পুরসভা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিশেষ দল মোতায়েন করা হবে। কোথাও নিষিদ্ধ নির্মাণ বা ভাঙার কাজ চলতে দেখা গেলে ঘটনাস্থলেই কাজ বন্ধের নোটিস দেওয়া হবে এবং পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণস্থল সিল করা-সহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর সমন্বিত কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (আইসিসিসি) থেকে গোটা অভিযানের উপর নজর রাখা হবে। এএনপিআর ক্যামেরার তথ্য, নিয়মভঙ্গের ঘটনা, জারি হওয়া চালান এবং নির্মাণস্থলে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান এই কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনও অনিয়মের খবর পেলেই বিশেষ নজরদারি দলকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা নাগরিক, গাড়ির মালিক, নির্মাণ সংস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আবাসিক কল্যাণ সমিতি (আরডব্লিউএ) এবং বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির কাছে বিধিনিষেধ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন। দিল্লির বাইরে নথিভুক্ত নিষিদ্ধ যান রাজধানীতে না আনা, নিষিদ্ধ বহিরাঙ্গন নির্মাণ ও ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা এবং নির্মাণস্থলে ধুলিকণা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহণ ও কার-পুলিংয়ের উপর জোর দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। খোলা জায়গায় আবর্জনা, শুকনো পাতা বা অন্য কোনও সামগ্রী না পোড়ানোরও আবেদন জানানো হয়েছে। দূষণ সংক্রান্ত নিয়মভঙ্গের ঘটনা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি দলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য