দুর্গাপুজো ঘিরে ডিমা হাসাওয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা পুজোর দিনগুলিতে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জেলা প্রশাসনের বৈঠক
হাফলং (অসম), ৫ অক্টোবর (হি স): শারদোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও জুড়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। পুজোর দিনগুলিতে যাতে উৎসবের আনন্দে কোনও রকম বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। দু
Photo


হাফলং (অসম), ৫ অক্টোবর (হি স):

শারদোৎসবের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও জুড়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। পুজোর দিনগুলিতে যাতে উৎসবের আনন্দে কোনও রকম বিঘ্ন না ঘটে, সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবার জেলা কমিশনা গায়েত্রী দেবীদাস হাইলিঙ্গের পৌরহিত্যে জেলা কমিশনারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানীয় জল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জরুরি পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুজোর দিনগুলিতে হাফলং শহর-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজো মণ্ডপগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে কি না, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিরাপদ কি না এবং মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর মতো ব্যবস্থা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে। পুজো কমিটিগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নিয়ম মেনে উৎসব পরিচালনা করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুজোর দিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। গুরুত্বপূর্ণ পুজোমণ্ডপ, বাজার এলাকা এবং শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে অতিরিক্ত নজরদারি, যান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রাতের বেলায় পুজোমণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

ডিমা হাসাওয়ের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবা, অ্যাম্বুল্যান্স এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবাকেও পুজোর দিনগুলিতে সক্রিয় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুজো কমিটিগুলিকে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উৎসব পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুজো উপলক্ষে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সাধারণ মানুষকেও প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ডিমা হাসাওয়ের হাফলং, মাহুর, উমরাংসো, দিয়ুংব্রা-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরই দুর্গাপুজোকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। এ বারও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পাহাড়ি শহর হাফলংয়ে পুজোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে। ফলে পুজোর আগে জেলা প্রশাসনের এই বৈঠককে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসবের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব দফতর সমন্বিত ভাবে কাজ করবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande