বেলপাহাড়িতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ, ঝাড়গ্রাম পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ সতর্কতা
ঝাড়গ্রাম, ৫ অক্টোবর (হি.স.) :ঘাঘরা জলপ্রপাতে পর্যটকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পর্যটকদের সুরক্ষায় একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল বেলপাহাড়ি থানা ও জেলা প্রশাসন। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা প্রীতি দত্ত (৩৪) নামে এক পর্য
বেলপাহাড়িতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কড়া পদক্ষেপ, ঝাড়গ্রাম পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ সতর্কতা


ঝাড়গ্রাম, ৫ অক্টোবর (হি.স.) :ঘাঘরা জলপ্রপাতে পর্যটকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পর্যটকদের সুরক্ষায় একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল বেলপাহাড়ি থানা ও জেলা প্রশাসন। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা প্রীতি দত্ত (৩৪) নামে এক পর্যটক ঘাঘরা জলপ্রপাতের প্রবল স্রোতে নিজের ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে জলে ডুবে প্রাণ হারান। প্রায় ৩০ ঘণ্টার দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর জলপ্রপাত ও সংলগ্ন পর্যটন ক্ষেত্রগুলিতে ভ্রমণার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর সোমবার সকালেই ঘাঘরা ও ধাঙ্গিকুসুম জলপ্রপাতের অতি বিপজ্জনক অংশগুলিতে শক্তিশালী ব্যারিকেড বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি খাদরানি প্রাকৃতিক হ্রদ চত্বর ও সেতুর ওপর একাধিক সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং পোস্টার টাঙানো হয়েছে। বেলপাহাড়ি থানার পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক সহযোগে লাগাতার প্রচার চালিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই যাতে কেউ ছবি তুলতে বা আনন্দ করতে গিয়ে সীমানার ব্যারিকেড টপকে বিপজ্জনক অংশে না নামেন, সেই বার্তা বারবার দেওয়া হচ্ছে।

বেলপাহাড়ি থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, সমস্ত জলাধার ও ঝরনার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি দড়ি এবং সতর্কতামূলক টেপ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট জানানো হচ্ছে যে, সামান্য অসতর্কতা বা নিয়ম অমান্য করার ফলে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখার জন্য পর্যটকদের প্রতি বিশেষ আকুল আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মানব সিঙ্গলা এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “আজ ঘাঘরা জলপ্রপাতের বিপজ্জনক অংশ সম্পূর্ণ ব্যারিকেড করে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এরপর মহকুমার অন্যান্য সমস্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদজনক পর্যটন কেন্দ্রগুলি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উল্লেখ্য, বর্ষাকাল ও পরবর্তী সময়ে ঘাঘরা ও ধাঙ্গিকুসুম জলপ্রপাত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে রূপময় হয়ে ওঠে, যা উপভোগ করতে প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে ভিড় জমান। কিন্তু অসচেতনতার কারণে এখানে সুরক্ষার ঝুঁকি থেকেই যায়। এর আগেও ঘাঘরা নদীতে একাধিক সলিলসমাধির ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী সংকেত সিং (২৭) স্নান করতে নেমে জলে ডুবে প্রাণ হারান। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৮ আগস্ট বারুইপুরের আট বছরের শিশু সমৃদ্ধি দত্তও একই জায়গায় জলে ডুবে মারা যায়। সাম্প্রতিক এই ঘটনা ফের নিরাপত্তার ফাঁকফোকর সামনে এনে দিল।

প্রশাসনের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়ে বেলপাহাড়ি ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র বিধান দেবনাথ বলেন, “এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। এই অঞ্চলে আসা সমস্ত পর্যটকদেরও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। তাঁদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে ভ্রমণের আনন্দ কোনোভাবেই জীবনের শেষ ট্র্যাজেডিতে পরিণত না হয়।”

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ




 

 rajesh pande