
কলকাতা, ৫ অক্টোবর (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে একাধিক জনকল্যাণমুখী ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি। সোমবার সল্টলেকে অবস্থিত বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য চলমান 'সেবা সংকল্প অভিযান' এবং আসন্ন 'সেবা জ্যোতি যাত্রা' সম্পর্কিত বিশদ পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে সূচিত হওয়া 'সেবা সংকল্প অভিযান' আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
শমীক ভট্টাচার্য জানান, আগামী ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশাসনিক প্রধান (গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও পরবর্তীকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী) হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করতে চলেছেন। এই মাইলফলক স্পর্শ উপলক্ষে ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলা সদরে একযোগে 'সেবা জ্যোতি যাত্রা' অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত কর্মসূচিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ বিশাল এলইডি পর্দার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভাষণ শেষের পর রাজ্যজুড়ে দলের কার্যকর্তাদের অংশগ্রহণে বিশেষ মশাল মিছিল ও 'সেবা জ্যোতি যাত্রা' বাস্তবায়িত হবে।
এর পাশাপাশি কলকাতার ঐতিহাসিক ভারতীয় জাদুঘরে এক বিশেষ চিত্র ও তথ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। এই প্রদর্শনীতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদীর গৃহীত বৈপ্লবিক পদক্ষেপ, গুজরাটের সর্বাঙ্গীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর কল্যাণমূলক কাজ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশসেবায় তাঁর ২৫ বছরের অবদান ফুটিয়ে তোলা হবে। এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ থেকে ১৪০ দিনের জনকল্যাণমুখী ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সাফল্যচিত্রও এই প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, “বর্তমান যুগের মূল ধর্মই হলো গণতন্ত্র এবং আধুনিক রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বিকাশ ও উন্নয়ন।” তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উন্নয়নমূলক ভাবনাকে ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করেছেন। গত আড়াই দশক ধরে তিনি জাতিভেদ, বিভাজন ও সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সার্বিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছেন।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও হিংসা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া হিংসার পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। তবে দলের অনুশাসন বজায় রাখার বার্তা দিয়ে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, বিজেপির সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তির বেআইনি বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপিতে কোনো ধরনের “তৃণমূলীকরণ”, সিন্ডিকেটরাজ বা তোলাবাজির রাজনীতির স্থান নেই। দলের মূল নীতিই হলো— “নেতার চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়”।
রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন বিমানবন্দর প্রকল্পগুলি অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে এবং মালদা বিমানবন্দর সংক্রান্ত কাজও অতি দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত আকাশপথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রাজ্যের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন জোয়ার আনবে। পরিশেষে, তিনি রাজ্যের সমস্ত সাধারণ নাগরিক ও শ্রমিক সমাজকে ৭ অক্টোবরের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে 'সেবা জ্যোতি যাত্রা' সফল করে তোলার আহ্বান জানান।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ