
হুগলি, ৫ অক্টোবর (হি.স.) :
হুগলি জেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামপুরের মহেশ জগন্নাথ মাঠে প্রস্তাবিত '১১ হাজার কণ্ঠে গীতা পাঠ' মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্দীপনা ও প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে। এই মহাসমারোহকে সর্বতোভাবে সফল করে তোলার লক্ষ্যে সোমবার সন্ধ্যায় রিষড়ার বাগখাল এলাকাস্থ দেবতিয়া ব্যাঙ্কোয়েট হলে এক বিশেষ আয়োজন ও সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে আসন্ন কর্মসূচির রূপরেখা, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নানাবিধ প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা সম্পন্ন হয়।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের পূজনীয় সন্ন্যাসী পদ্মশ্রী স্বামী কার্তিক মহারাজ এবং স্থানীয় বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য। তাঁদের পাশাপাশি অঞ্চলের বিশিষ্ট সমাজসেবী, ব্যবসায়ী ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে কর্মসূচির সুষ্ঠু রূপায়ণের জন্য নানা গঠনমূলক পরামর্শ ও মতামত প্রদান করেন।
এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা মনোজ সিং, নমিতা নায়ক, অচ্ছেলাল যাদব, মুকেশ দেবতিয়া, আকাশ দেবতিয়া, রতন আগরওয়াল, দেবদীপ ভাদুড়ি, সঞ্জয় চৌধুরী, অনিল আগরওয়াল, সমর কুণ্ডু, অশোক দেবতিয়া, আশিস দেবতিয়া এবং অজয় সাউসহ এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ জানান, আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে '১১ লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠ'-এর এক অভূতপূর্ব সর্বজনীন কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সুবিশাল জাতীয় অনুষ্ঠানকে পাখির চোখ করে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আবহাওয়া তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে ছোট-বড় পরিসরে গীতা পাঠের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আগামী ২৮ অক্টোবর ঐতিহাসিক মহেশ জগন্নাথ ধামের প্রাঙ্গণে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতা পাঠের এই মহা উদ্যোগ প্রস্তাবিত হয়েছে।
রিষড়ার বৈঠকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, যাতায়াত ও সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভক্তদের থাকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। ব্যবসায়ী সমিতি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে পূর্ণ সহযোগিতার আর্জি জানানো হয়, যা তাঁরা সানন্দে গ্রহণ করেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলিতে প্রস্তুতি বৈঠক ও প্রচার অভিযান আরও জোরদার করা হবে। প্রসঙ্গত, এদিনের সমন্বয় বৈঠকের পূর্বেই পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ স্বয়ং মহেশের জগন্নাথ মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করে মাঠের সার্বিক ধারণক্ষমতা ও ভৌগোলিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA