কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নাচলেই গণতন্ত্র রক্ষা হয় না, বিজেপিকে কটাক্ষ কংগ্রেসের
আগরতলা, ১ নভেম্বর (হি.স.) : কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নেচে-গেয়ে গণতন্ত্র রক্ষা কিংবা দেশ থেকে অরাজকতা দূর করা যায় না। শাসক দল বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে এমনই মন্তব্য করল প্রদেশ কংগ্রেস। একই সঙ্গে আসন্ন নগর ভোটকে কেন্দ্
কংগ্রেসের সাংবাদিক সম্মেলন


আগরতলা, ১ নভেম্বর (হি.স.) : কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নেচে-গেয়ে গণতন্ত্র রক্ষা কিংবা দেশ থেকে অরাজকতা দূর করা যায় না। শাসক দল বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে এমনই মন্তব্য করল প্রদেশ কংগ্রেস। একই সঙ্গে আসন্ন নগর ভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মনোনয়নপত্র দাখিলের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস।

রবিবার কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বিজেপির শনিবারের পদযাত্রা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজধানীতে বিজেপির পদযাত্রায় মন্ত্রী, বিধায়ক ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্য প্রদর্শন এবং কংগ্রেস ভবনের সামনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, নেতা-মন্ত্রীদের এ ধরনের কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্য প্রদর্শনের ঘটনা এর আগে রাজ্যে দেখা যায়নি। যে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’, সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের আচরণই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, গণতন্ত্র রক্ষার নামে এই ধরনের কর্মসূচির উদ্দেশ্য কী?

কংগ্রেস মুখপাত্রের বক্তব্য, দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই বর্তমানে বিজেপির ডবল বা ট্রিপল ইঞ্জিনের সরকার রয়েছে। ত্রিপুরাতেও চলছে ডবল ইঞ্জিনের সরকার। তাহলে গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব কার? কারা গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করছে? এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কুৎসিত অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্য প্রদর্শন করে গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না, দেশ থেকে অরাজকতাও দূর করা যায় না।

উল্লেখ্য, ইন্ডি জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে শনিবার রাজধানী আগরতলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি পালন করে বিজেপি। ওই কর্মসূচিতে দলের মন্ত্রী, বিধায়ক ও কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। বিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই রবিবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন নগর ভোটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন প্রবীর চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহকুমা শাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে রেখে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার কমলপুরে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়ে সিপিআই(এম) প্রার্থীদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে বিরোধী দলগুলিকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে।

মোহনপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, শনিবার ওই কার্যালয় কার্যত বিজেপি কর্মীদের ঘেরাওয়ের অধীনে ছিল। এর ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

খয়েরপুরে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় সভা নিয়েও অভিযোগ তোলে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রবীর চক্রবর্তীর দাবি, ওই সভায় কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃবৃন্দকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনের আগে সর্বদলীয় আলোচনায় বিরোধী দলগুলিকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, আসন্ন পুর ও নগর ভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক হিংসা ও ভয়ভীতির পরিবেশ বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande