
ঝাড়গ্রাম, ২ নভেম্বর (হি.স.) : ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবায় এবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই হাসপাতালেই খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে সর্বাধুনিক এমআরআই পরিষেবা। এর পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের সুবিধার্থে একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগ ভবন নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির সামগ্রিক অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য তথা বিনপুরের বিজেপি বিধায়ক চিকিৎসক প্রণত টুডু।
এদিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক ডঃ প্রণত টুডু জানান, ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এমআরআই পরিষেবা চালুর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। সেই পরিষেবা চালু করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ঘরের পরিকাঠামো গঠন ও আনুষঙ্গিক কাজের অগ্রগতি পরীক্ষা করতেই তিনি পরিদর্শনে এসেছিলেন। তিনি আশাপ্রকাশ করেন যে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করে সাধারণ মানুষের জন্য এমআরআই পরিষেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঝাড়গ্রাম ও তার সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি উন্নতমানের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের। সেই জনদাবি পূরণে মেডিক্যাল কলেজ চত্বরের ভেতরেই উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে ৫০ শয্যার একটি ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার জন্য বিশদ পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন বহির্বিভাগ ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পথে বলে জানান তিনি। তবে ঠিক কোন তারিখ থেকে সেখানে নতুন বহির্বিভাগের পরিষেবা চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তুলতে একাধিক সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এই সমস্ত নতুন পরিষেবাগুলি পুরোদমে চালু হলে ঝাড়গ্রাম জেলা সহ সমগ্র জঙ্গলমহল এলাকার মানুষকে আর জটিল চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী কোনো উন্নত হাসপাতালে ছোটছুটি করতে হবে না। বিশেষ করে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত জীবনদায়ী চিকিৎসা প্রদান এবং জটিল রোগ নির্ভুলভাবে নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই নতুন প্রকল্পগুলি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো