হুগলিতে তৈরি হবে খাদ্য পরীক্ষাগার, চুঁচুড়ায় জমি খোঁজার কাজ শুরু
হুগলি, ২ নভেম্বর (হি.স) : খাদ্যপণ্যের গুণগত মান ও ভেজাল পরীক্ষা করতে এবার হুগলি জেলাতেই তৈরি হতে চলেছে খাদ্য পরীক্ষাগার। এতদিন খাদ্যদ্রব্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতার উপর নির্ভর করতে হত জেলা প্রশাসনকে। এবার সেই নির্ভরতা কমাতে চুঁচুড়ায় খাদ্য পরী
হুগলিতে তৈরি হবে খাদ্য পরীক্ষাগার, চুঁচুড়ায় জমি খোঁজার কাজ শুরু


হুগলি, ২ নভেম্বর (হি.স) : খাদ্যপণ্যের গুণগত মান ও ভেজাল পরীক্ষা করতে এবার হুগলি জেলাতেই তৈরি হতে চলেছে খাদ্য পরীক্ষাগার। এতদিন খাদ্যদ্রব্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতার উপর নির্ভর করতে হত জেলা প্রশাসনকে। এবার সেই নির্ভরতা কমাতে চুঁচুড়ায় খাদ্য পরীক্ষাগার তৈরির উদ্যোগ শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষাগারের জন্য প্রায় চার হাজার বর্গফুট জমি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এক আধিকারিক এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের পরীক্ষাগার তৈরির উপযুক্ত জমি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে হুগলি জেলার বিভিন্ন বাজার, মিষ্টির দোকান, রেস্তরাঁ, বেকারি এবং খাদ্য উৎপাদনকারী সংস্থা থেকে সংগ্রহ করা খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠাতে হয়। ফলে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেতে অনেকটা সময় লেগে যায়। জেলায় নিজস্ব পরীক্ষাগার তৈরি হলে খাদ্যপণ্যে ভেজাল, গুণগত মান এবং খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে পরীক্ষাগারের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করা হবে। এরপর জমি সংক্রান্ত প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পাশাপাশি পূর্ত দফতরের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।

এই পরীক্ষাগার চালু হলে জেলার বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত নমুনা স্থানীয় স্তরেই পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে খাদ্যে ভেজাল সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে হুগলি জেলায় ২০০-র বেশি রেস্তরাঁ ও খাদ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়ায় জেলায় নিজস্ব খাদ্য পরীক্ষাগার তৈরির প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, চুঁচুড়ায় খাদ্য পরীক্ষাগার তৈরির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হুগলি জেলার খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ সাঁতরা




 

 rajesh pande