
হাফলং (অসম), ২ নভেম্বর (হি স): চুনাপাথর খননকে ঘিরে ডিমা হাসাওয়ের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, জেলার ১৩টি চুনাপাথরের ব্লক নিলামের মাধ্যমে আগামী ৫০ বছরে প্রায় ৮৪,৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতে পারে। এর ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ বছরে আনুমানিক ১,০১৪ কোটি টাকা সরাসরি পাবে ডিমা হাসাও স্বশাসিত পার্বত্য পরিষদ (ডিএইচএসি)।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের অগ্রণী সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১৩টি চুনাপাথরের ব্লক নিলাম করা হয়েছে। এই নিলাম থেকে ৫০ বছরে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ ৮৪,৫০০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে বছরে গড় রাজস্ব দাঁড়াতে পারে প্রায় ১,৬৯০ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৬০ শতাংশ পরিষদের তহবিলে জমা পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই ব্যবস্থা ডিমা হাসাও স্বশাসিত পার্বত্য পরিষদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। উন্নয়নমূলক কাজ ও স্থানীয় প্রয়োজন মেটাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজ্য কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ডিমা হাসাওয়ের অতীতের জঙ্গি সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে হিমন্তের বক্তব্য, আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে শিল্প ও ব্যবসার প্রসারের সুফল তখনই স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছবে, যখন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলিও সেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের রাজস্বের সরাসরি অংশীদার হবে। চুনাপাথরের ব্লক নিলামকে সেই সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
একই সঙ্গে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় শিল্প ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নিলাম ডিমা হাসাওয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজস্বের একটি বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।
তবে বছরে ১,০১৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত সম্ভাব্য হিসাব। বাস্তবে এই রাজস্বের পরিমাণ নির্ভর করবে খনন ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব