
দুর্গাপুর,৩ নভেম্বর (হি.স.) : ঔষধ দোকান। আর সেই সুযোগেই চলত নিষিদ্ধ কফ সিরাপ ও নেশার টযাবলেট বিক্রি! বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। অথচ ভিতরে মজুত ছিল বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ওষুধ। পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার হল ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০০টি অ্যালপ্রাজোলাম ট্যাবলেট (ঘুমের ঔষধ) ও ২৮৫ বোতল ফেন্সিডিল কাশির সিরাপ। বেআইনিভাবে এত বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার ঔষধ দোকানের মালিক। মঙ্গলবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতের নাম সুদীপ মুখার্জী। মঙ্গলবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন খারিজ করে দেন। ঘটনায় জানা গেছে, গোপনসুত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুরের এনটিএস থানার অন্তর্গত বিধান পার্কের সেক্টর-২ এলাকার ১বি/২৭ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বাড়িটির বাসিন্দা ওষুধের দোকানের মালিক বছর ৫০ এর সুদীপ মুখোপাধ্যায়। তল্লাশিতে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৪৭৪ বাক্স অ্যালপ্রাজোলাম ট্যাবলেট। প্রতিটি ট্যাবলেটের মাত্রা ০.৫ মিলিগ্রাম। সব মিলিয়ে ট্যাবলেটের সংখ্যা ২ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০০। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ২৮৫ বোতল কাশির সিরাপ, যার মোট পরিমাণ ২৮.৫ লিটার।
উদ্ধার হওয়া সমস্ত ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। প্রশ্ন কি কারনে এই বিপুল পরিমান ঘুমের ঔষধ ও কফ সিরাপ মজুত করেছিলেন। জানা গেছে, অ্যালপ্রাজোলাম ট্যাবলেট মুলত ঘুমের ঔষধ। আবার অনেকে নেশার জন্য ব্যাবহার করে। একইরকম ভাবে নেশার জন্য কাশির সিরাপ ব্যাবহার করে। তাই চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এই ট্যাবলেট দেওয়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু তারপরও কেন এই বিপুল পরিমান ট্যাবলেট মজুত করেছিলেন। তাহলে কি বেআইনীভাবে নেশার জন্য সরবরাহ করত? যদিও সেসব তদন্ত সাপেক্ষ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা