
কলকাতা, ৩ নভেম্বর (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পারস্পরিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত ফের তুঙ্গে উঠেছে। কলকাতার পূর্বাঞ্চলীয় উপনগরী সল্টলেকে রাতারাতি বেশ কিছু বিতর্কিত পোস্টার সাঁটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই পোস্টারগুলিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও কটাক্ষ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে সংসদ ভবনের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। মূলত বিজেপির নতুন জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন-এর নেতৃত্বে শহরে অনুষ্ঠিত একটি বিশাল রাজনৈতিক জনসভার ঠিক পরেই এই পোস্টারগুলি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, করুণাময়ী বাস টার্মিনাস এবং করুণাময়ী ক্রসিংয়ের সংযোগস্থল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অলিগলিতে রাতের আড়ালে এই পোস্টারগুলি লাগানো হয়। পোস্টারে রাহুল গান্ধীর ছবির নিচে ক্যাপশনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে— দেশের নেতা কি এমন হওয়া উচিত? এই পোস্টারগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও গভীর রহস্য বজায় রয়েছে। বিশেষ করে ওই একই দিনে বিজেপির 'গণতন্ত্র বাঁচাও' মেগা মিছিলে এই ধরনের কোনো প্রচার সামগ্রী বা পোস্টার দেখা না যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বহুগুণ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ওই জনসভার মঞ্চ থেকে বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, কংগ্রেস যদি তাদের অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে না শেখে, তবে অদূর ভবিষ্যতে তারা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
এই বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগতেও দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র ও আক্রমণাত্মক তনয়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে আসরে নেমে রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং বিজেপির এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সল্টলেকে এই ধরনের পোস্টার লাগানোর ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে, রাজ্যের বিজেপি নেতারা সংসদ ও রাজপথে রাহুল গান্ধীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা দেখে মানসিকভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সেই আতঙ্ক ও গ্লানিই এই কাপুরুষোচিত কাজের মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির মতে, এই ধরনের অপপ্রচার উলটে ভোটারদের মনে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, বাংলার রাজনীতিতে কংগ্রেস আজ অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাসঙ্গিক একটি শক্তি। এছাড়া, প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রবীণ নেতা সৌম্য আইচ রায় এই ঘটনাকে একজন জাতীয় নেতার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি ‘ফ্যাসিস্ট চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পন্থায় ও জনসমক্ষে রাহুল গান্ধীর ভাবমূর্তি মলিন করতে ব্যর্থ হয়ে এখন বিজেপি তাদের নোংরা ডিজিটাল মেশিনারি ও গোপন রাজনৈতিক অস্ত্র ব্যবহার করছে।
এদিকে এর মাঝেই পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি এক বড় অভিযোগ এনে জানিয়েছে যে, বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর বিরুদ্ধে লাগাতার সমালোচনামূলক ও তথ্যভিত্তিক পোস্ট করায় তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি আকস্মিকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করে দেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল যোগাযোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি একে বিরোধী দলের কণ্ঠস্বর রোধ করার একটি একনায়কসুলভ ও ফ্যাসিবাদী অপচেষ্টা বলে তোপ দেগেছেন এবং দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন যে, শত বাধার মুখেও বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁদের এই ডিজিটাল প্রতিবাদ ও প্রচারাভিযান সমান তালে অবিরত চালিয়ে যাওয়া হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি