
খোয়াই (ত্রিপুরা), ৩ নভেম্বর (হি.স.) : খোয়াই জেলার কল্যাণপুর থানাধীন ঘিলাতলিতে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জলিল রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করল দুই অভিযুক্ত। সোমবার রাতে কল্যাণপুর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। এর আগে এই মামলায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ফলে জলিল রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় মোট গ্রেফতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।
গত ১ সেপ্টেম্বর ঘিলাতলি এলাকায় গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হন স্থানীয় যুবক জলিল রহমান। অভিযোগ, ওই দিন তাঁকে ঘিরে ধরে কয়েকজন মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয় বিভিন্ন মহল। জলিল রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিও ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল।
অবশেষে সোমবার রাতে দুই অভিযুক্তের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কল্যাণপুর থানার ওসি আশীষ সরকার জানান, আত্মসমর্পণকারী দুই অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাদের আদালতে পেশ করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না এবং গণপিটুনির সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গরুচোর সন্দেহে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এক যুবকের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় এখনও উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। দুই মূল অভিযুক্তের আত্মসমর্পণের পর তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আদালতে মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকাবাসীর।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ