কাছাড়িরা আদিবাসী, অভিবাসী নন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিওর বক্তব্যের প্রতিবাদ প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিৎ হাফলংবারের
হাফলং (অসম), ৩ নভেম্বর (হি স): কাছাড়ি জনগোষ্ঠীকে নাগাল্যান্ডের অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করার কথিত বক্তব্য ঘিরে নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিওর বিরুদ্ধে সরব হলেন ডিমা হাসাওয়ের প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিৎ হাফলংবার। এক বিবৃতিতে তিনি এই বক্তব্যের প্রত
কাছাড়িরা আদিবাসী, অভিবাসী নন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিওর বক্তব্যের প্রতিবাদ প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিৎ হাফলংবারের


হাফলং (অসম), ৩ নভেম্বর (হি স): কাছাড়ি জনগোষ্ঠীকে নাগাল্যান্ডের অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করার কথিত বক্তব্য ঘিরে নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিওর বিরুদ্ধে সরব হলেন ডিমা হাসাওয়ের প্রাক্তন বিধায়ক সমরজিৎ হাফলংবার। এক বিবৃতিতে তিনি এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কাছাড়িরা নিজেদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে অভিবাসী নন। উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রাচীন জনগোষ্ঠী হিসেবে তাঁদের কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে।

সমরজিৎ হাফলংবারের বক্তব্য, নাগাল্যান্ড রাজ্য গঠনের বহু আগে থেকেই ডিমাপুর ছিল কাছাড়ি রাজ্যের রাজধানী। ডিমাপুরের ঐতিহাসিক প্রস্তরস্তম্ভ, স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কাছাড়ি রাজত্বের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। তাঁর কথায়, ডিমাপুরের ইতিহাস ১৯৬৩ সালে শুরু হয়নি। কোনও নতুন রাজনৈতিক সীমানা কয়েক শতাব্দীর প্রাচীন ইতিহাসকে মুছে দিতে পারে না।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯১৮ সালে রেলপথ উন্নয়নের উদ্দেশ্যে অসমের পক্ষ থেকে নাগা হিলসকে জমি লিজ দেওয়ার বিষয়টি এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে ডিমাপুরের বর্তমান অবস্থানের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মতে, আদিবাসী পরিচয়কে কেবল বর্তমান রাজ্যের সীমানার নিরিখে বিচার করা উচিত নয়। কাছাড়ি জনগোষ্ঠী, যার মধ্যে ডিমাসা-সহ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীগুলিও রয়েছে, আধুনিক রাজ্যব্যবস্থা গড়ে ওঠার বহু আগে থেকেই এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বহন করে আসছে।

একই সঙ্গে নাগা জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচয়, প্রথাগত আইন ও অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার অর্থ অন্য একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও পরিচয় অস্বীকার করা হতে পারে না।

নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন, কাছাড়িদের অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করার বক্তব্য পুনর্বিবেচনা করে স্পষ্টীকরণ দেওয়া হোক। পাশাপাশি ডিমাপুরে কাছাড়ি রাজ্যের ঐতিহাসিক উপস্থিতিকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং নাগাল্যান্ডে বসবাসকারী কাছাড়ি জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

সমরজিৎ হাফলংবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নাগাল্যান্ডের রাজ্যত্ব কিংবা নাগা জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে তাঁদের কোনও প্রশ্ন নেই। তাঁদের আপত্তি কেবল কাছাড়ি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও পরিচয় অস্বীকার করার প্রবণতার বিরুদ্ধে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সমস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande