
বাগডোগরা, ৭ নভেম্বর (হি.স.): উত্তর-পূর্ব ভারতের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে সামরিক প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক না রাখার স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শনিবার সিকিম সফরের আগে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে মোতায়েন ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মী ও আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সর্বদা উচ্চ পর্যায়ের কর্মতৎপরতা ও সার্বক্ষণিক সতর্কতা বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেন। আধুনিক সমরকৌশলের দ্রুত পরিবর্তনশীল রূপরেখা তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র এখন আর কেবল ভৌগোলিক সীমান্তের প্রচলিত সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার হানা, ড্রোন প্রযুক্তি, প্রক্সি যুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিকল্পিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মতো 'তথ্য যুদ্ধ' (ইনফর্মেশন ওয়ারফেয়ার)—এই সবই এখন দেশের সার্বভৌমত্বের সামনে নিত্যনতুন ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এই বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলার রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, নতুন যুগের এসব বিপদ মোকাবিলা করতে হলে সামরিক বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত সচেতন এবং আধুনিক যুদ্ধোপকরণে সুসজ্জিত হতে হবে। তবে একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, কেবল উন্নত প্রযুক্তিই যুদ্ধজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না; অদম্য সাহস, কঠোর শৃঙ্খলা, সুউচ্চ মনোবল এবং দেশপ্রেমের দায়িত্ববোধই হলো আমাদের বাহিনীর আসল শক্তি।
প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মেলবন্ধনের ওপর বিশেষ জোর দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিবিড় ও আন্তরিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি, কারণ জাতীয় সুরক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থা। 'আত্মনির্ভর ভারত' প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, দেশীয় স্টার্টআপ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি বর্তমানে ড্রোন, ড্রোন-প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উদ্ভাবন ও উৎপাদনে যুগান্তকারী ভূমিকা নিচ্ছে। ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীও দ্রুত দেশীয় প্রযুক্তিকে আত্মস্থ করছে এবং বাস্তবসম্মত আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতিকে গ্রহণ করছে।
প্রতিটি সফল সামরিক অভিযানের পেছনে সম্মিলিত দলগত প্রয়াস, নিষ্ঠা ও পেশাদারি অঙ্গীকারই প্রধান চালিকাশক্তি বলে মন্তব্য করেন রাজনাথ সিং। জওয়ানদের অভয় দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত পাহারায় রত বীর সেনানীদের পাশে গোটা দেশ এখন পাহাড়ের মতো অবিচল ও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ