
গুয়াহাটি, ১১ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার সঙ্গে ঢাকা-ভিত্তিক জনৈক আলেমের (মৌলানা) একটি ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন সৰ্বভারতীয় কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। ওই পোস্টের পাল্টা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. শৰ্মা।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরার ওই সোশাল মিডিয়া পোস্টের জবাব দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ড. শর্মা বলেন, পূৰ্ববৰ্তী কংগ্রেস সরকারের আমলে এ ধরনের সাক্ষাৎ সাধারণ ঘটনা ছিল। ‘মৌলানাদের সঙ্গে দেখা করতে কংগ্রেসই বলত’। মুখ্যমন্ত্রী একে ‘বুমেরাং হয়ে ফিরে আসা তির’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার পাল্টা অভিযোগ, কংগ্রেসের আমলে অসমে রাজনৈতিক নেতাদের মৌলানা সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ছিল স্বাভাবিক বিষয়।
পবন খেরা এক্স-এ শেয়ারকৃত ছবিতে দাবি করেছেন, শর্মার সঙ্গে থাকা ওই আলেম ঢাকার চিশতিয়া সাইদিয়া দরবার শরিফের সঙ্গে যুক্ত এবং পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। খেরা প্রশ্ন তুলেন, ‘যদি এতে সন্দেহজনক কিছু না-ই থাকে, তবে বিষয়টি আগে থেকে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে প্রকাশ করা হয়নি কেন?’
এর জবাবে হিমন্তবিশ্ব শর্মা এক্স-এ লিখেছেন, ‘শ্রী পবন খেরা-জি প্রকাশ্যে মৌলানার সঙ্গে তোলা আমার একটি ছবি শেয়ার করেছেন। আসলে এটি বুমেরাং হয়ে ফিরে আসা তিরের মতো।’ তিনি দাবি করেন, ‘একই মৌলানা সম্মানিত তরুণ গগৈ-জি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন এবং তাঁর ছেলে গৌরব গগৈয়ের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে মৌলানাদের সঙ্গে একাধিক ছবি রয়েছে। পবন খেরার প্রয়োজন হলে আমি আরও ছবি দিতে পারি। কংগ্রেস কি অস্বীকার করতে পারবে যে ওই মৌলানা তরুণ গগৈয়ের সঙ্গে দেখা করেননি?’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কংগ্রেসে থাকার সময় তাঁকে প্রায়ই বিভিন্ন ‘মৌলানার’ সঙ্গে দেখা করতে বলা হতো। ড. শর্মার দাবি, এ ধরনের বিষয়ও তাঁর কংগ্রেস ছাড়ার অন্যতম কারণ ছিল। ২০১৫ সালে মতাদর্শগত অমিলের কথা উল্লেখ করে তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এখন বেছে বেছে এই বিষয়টি কেন তোলা হচ্ছে? জনজীবনে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাজ্যে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি মন্তব্য প্রকাশ্যে অসছে। দুই দলই সোশাল মিডিয়া এবং সমাবেশ-মঞ্চে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক লড়াই জারি রেখেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস