
আগরতলা, ১২ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিআইটিইউ রাজ্য নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার সংগঠনের রাজ্য কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক শংকর প্রসাদ দত্ত দাবি করেন, ডাকা ধর্মঘট কার্যত সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে এবং রাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
তিনি জানান, এদিন ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ যানবাহন রাস্তায় নামেনি এবং যাত্রী উপস্থিতিও ছিল কম। রেলস্টেশনে প্রায় শতাধিক যাত্রী দেখা যায় এবং তিনটি স্থানে প্রতীকী ‘রেল রোকো’ কর্মসূচি পালন করা হয়। ব্যাঙ্কিং পরিষেবাতেও প্রভাব পড়ে বলে দাবি করেন তিনি। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং গ্রামীণ বাজারে প্রায় ৯৯ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল বলেও তাঁর বক্তব্য।
শংকর প্রসাদ দত্ত অভিযোগ করেন, বেলা ১১টা-১২টার পর মেলারমাঠ সহ কয়েকটি এলাকায় ধর্মঘট বিরোধীরা জোর করে দোকান খুলতে বাধ্য করে। বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং চলাকালীন পুলিশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়কও রয়েছেন বলে তিনি জানান। জিরানিয়া শচীন্দ্রনগর কলোনির কালী চৌমুহনিতে ডিওয়াইএফআই নেতা বাবুল দেবনাথের উপর হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। এ ঘটনায় শাসকদলের মদতের অভিযোগ করেন শংকর প্রসাদ দত্ত।
সংগঠনের সভাপতি মানিক দে বলেন, কর্মসংস্থান রক্ষার দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে এবং গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এতে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ধর্মঘটের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে গেছে এবং সরকার এ থেকে শিক্ষা নেবে কি না তা সরকারের বিষয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিতও দেন সিআইটিইউ নেতৃত্ব। সাংবাদিক সম্মেলনে ধনমনি সিনহা, দীপক দেব ও রঘুনাথ সরকার উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ