
নয়াদিল্লি, ২৫ ফেব্রুয়ারি (হি.স.): বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা বর্ণনার আড়ালে ‘দুর্নীতি’র প্রসঙ্গ উল্লেখ কোনওভাবেই বরদাস্ত হবে না। এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির বইয়ে ‘সমাজে বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায় আসলে বিচার ব্যবস্থার উপর ‘পরিকল্পিত’ আক্রমণ। বুধবার এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ওই বিশেষ অধ্যায় নিয়ে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কথায়, পরিকল্পিতভাবে বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার অবমাননা কোনও মতেই বরদাস্ত করা হবে না। বুধবার আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইয়ের ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ অধ্যায়ের প্রসঙ্গটি শীর্ষ আদালতে পেশ করেন। সিব্বলের কথায়, অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের শেখানো হচ্ছে, বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি হচ্ছে। আমরা মর্মাহত। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার আর্জিও করেন তাঁরা। এর পরই আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। দ্রুতই এর বিরুদ্ধে জরুরি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এনসিইআরটি-র তরফে অষ্টম শ্রেণির জন্য সমাজবিজ্ঞানের নতুন বই প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক একটি অধ্যায় রয়েছে। সেই অধ্যায়েই রয়েছে বিচারব্যস্থায় দুর্নীতি এবং বিচার কাঠামোয় একাধিক বাধার প্রসঙ্গ। বলা হয়েছে, বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি অন্যতম উদ্বেগের বিষয়। এ ছাড়া ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে আদালতে একাধিক মামলার নিষ্পত্তি না হওয়াকেও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন আদালতে কত মামলা এখনও অমীমাংসিত, সেই তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। বইয়ে বিচারে বিলম্বের কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দায়ী করা হয়েছে পর্যাপ্ত বিচারকের অভাব, জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের উপযুক্ত পরিকাঠামোকে। বইয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারব্যবস্থা নিয়ে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ‘সেন্ট্রালাইডজ়ড পাবলিক গ্রিভান্স রিড্রেস অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’-এর মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৬০০-র বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এনসিইআরটি-র এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন আইনজীবীদের একাংশ। এর পরেই শীর্ষ আদালতের এই মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ