
ইমফল (অসম), ৪ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : চরিত্র, অঙ্গীকার ও সমষ্টিগত দায়িত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সহ-সরকার্যবাহ অরুণ কুমার যুবসমাজকে জাতিসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমফলে সেন্ট্রাল অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির অধীন আইরোইসেম্বায় অবস্থিত কলেজ অব অ্যাগ্রিকালচারের অডিটোরিয়ামে “দ্য সংঘ ওয়ে : ১০০ ইয়ার্স অব সার্ভিস” শীর্ষক বিষয়ের অধীনে আয়োজিত যুবসংবাদ (যুব সংলাপ) কর্মসূচিতে ভাষণ দিচ্ছিলেন সংঘ-এর সহ-সরকার্যবাহ অরুণ কুমার। তিনি বলেন, “প্রতিটি মুহূর্তে জাতির জন্য বাঁচতে হবে আমাদের।” প্রধান অতিথি ও মুখ্য বক্তা হিসেবে অরুণ কুমার ভারতকে একটি জীবন্ত সভ্যতা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার অবিচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ও গভীর সভ্যতাগত ঐতিহ্যের জন্য অনন্য।
তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান এই গভীরভাবে প্রোথিত “সমষ্টিগত চেতনা”-র ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা হাজার হাজার বছরের ভারতীয় সভ্যতার যাত্রা থেকে উদ্ভূত। জোর দিয়ে তিনি বলেন, আরএসএস-এর দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তি নির্মাণ, যা রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি। বলেন, “মহান মানুষই মহান জাতি গড়ে তোলে,”।
সহ-সরকার্যবাহ বলেন, কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের মধ্যে নৈতিক শক্তি, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ না থাকলে জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয় না।
সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের ভাবনাকে স্মরণ করে অরুণ কুমার বলেন, সংঘের লক্ষ্য ছিল ব্যক্তি ও সমাজের রূপান্তরের মাধ্যমে মানুষ ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ না থাকি, তবে স্বাধীনতার পরেও আবার পরাধীন হয়ে পড়তে পারি।”
জাতীয় পুনর্জাগরণের পথ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি চরিত্র গঠনের পাঁচটি অপরিহার্য দিক তুলে ধরেন। সেগুলি সভ্যতাগত পরিচয় বোঝা, জাতিকে সর্বাগ্রে রাখা, ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চ্যালেঞ্জের প্রতি সদা সতর্ক থাকা এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতার অবশিষ্ট প্রভাব অতিক্রম করা। অরুণ কুমার বলেন, “নিজের ঐতিহ্যের প্রতি আত্মবিশ্বাস হারালে সমাজ দুর্বল হয়, আর পরিচয় পুনরুদ্ধার করলে সমষ্টিগত সংকল্প শক্তিশালী হয়।”
বিকশিত ভারত-এর স্বপ্নের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যকে যুক্ত করে অরুণ কুমার পঞ্চ পরিবর্তন-এর ধারণা তুলে ধরেন - সমাজিক সমরসতা (সামাজিক সম্প্রীতি), কুটুম্ব প্রবোধন (পারিবারিক মূল্যবোধের শক্তিশালীকরণ), পরিবেশ সংরক্ষণ,
স্বভাব জাগরণ (ঐতিহ্য ও আত্মনির্ভরতাভিত্তিক আত্মসচেতনতার জাগরণ) এবং নাগরিক কর্তব্য (দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ)।
তিনি বলেন, শৃঙ্খলা, আইনের প্রতি সম্মান এবং নাগরিক শিষ্টাচারকে বাধ্যবাধকতা নয়, বরং গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত। যুবসমাজকে উদ্দেশ্যমূলক জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা দিয়ে অরুণ কুমার “এক জীবন, এক লক্ষ্য” নীতির কথা বলেন এবং প্রত্যেক তরুণকে অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যার সমাধানে নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বান জানান। জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের ঐক্য ও সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বেকারত্ব প্রসঙ্গে আলোচনা করেন। বলেন, কৃষি, দক্ষ পেশা ও উদ্যোক্তাবৃত্তিকে অবমূল্যায়নের সামাজিক মানসিকতাও এর একটি কারণ। তিনি যুবকদের বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হওয়া এবং সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
ডিজিটাল বিভ্রান্তি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি ছাত্রজীবনকে সাধনা-শৃঙ্খলা ও আত্মোন্নয়নের এক পর্ব — হিসেবে বর্ণনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক স্বচ্ছতা ও স্বাভাবিক প্রতিভা বিকাশের উপর মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে, যেখানে ছাত্র ও শিক্ষকদের উৎসাহী অংশগ্রহণ যুবনেতৃত্বাধীন জাতি গঠন ও সামাজিক রূপান্তরের বার্তাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন সেন্ট্রাল অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক অনুপম মিশ্র। অনুষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস