
ইমফল, ৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : হাসপাতালে গিয়ে উখরুল জেলায় সংগঠিত হিংসায় আহত ব্যক্তির শারীরিক খোঁজখবর নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। সংঘর্ষ ছেড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ সোমবার ইমফলে অবস্থিত ‘রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সস’ (রিমস)-এ চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। তাঁর সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালে আহতের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়ে বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সকল সম্প্রদায়ের কাছে সংযমের আহ্বান জানিয়ে উত্তেজনা না বাড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন। খেমচাঁদ সিং বলেন, ‘আমি সমাজের সব অংশকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার অনুরোধ জানাই। আলোচনা এবং সংযমই উত্তেজনা প্রশমনের একমাত্র উপায়।’
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, আজ সকালে উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি ডিখো, উখরুলের বিধায়ক রাম মুইভা এবং সাইকুলের বিধায়ক কিমনেও হাংশিং হাওকিপ হিংসাজর্গজর লিতান সারেইখং এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেখানে একদিন আগে তাংখুল ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ওই ঘটনায় ২০টির বেশি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। তিনটি চার চাকার গাড়িও পোড়ানো হয়েছে। হিংসার পর এলাকায় এবং আশপাশে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং নতুন করে অশান্তি ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করা হয়েছে।
হিংসার পর উভয় সম্প্রদায়ের ভীত-সন্ত্রস্ত বাসিন্দারা আক্রান্ত গ্রামগুলো ছাড়তে শুরু করেছেন। তাঁরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রসহ্গত, উখরুলের হিংসা ঘটেছে তুইবং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও একদল জনতার মধ্যে সংঘর্ষের কয়েক দিনের মধ্যেই। ওই সংঘর্ষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর প্রায় ৩-টা পর্যন্ত প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে চলে। এর জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্পূর্ণ শাটডাউন জারি করা হয়।
মণিপুরের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের শপথগ্রহণের প্রতিবাদকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ে। চূড়াচাঁদপুর জেলায় এই প্রতিবাদ সহিংস রূপ নেয়। জানা গেছে, তুইবং মেইন মার্কেট থেকে অশান্তি শুরু হয়। সেখানে শত শত তরুণ প্রতিবাদকারী নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করে।
তুইবং ফরেস্ট গেটের কাছে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়। অভিযোগ, জনতা এলাকায় মোতায়েন নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর পাথর ছোঁড়ে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস