


গুয়াহাটি, ৯ ফেব্ৰুয়ারি (হি.স.) : নিম্ন অসমের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অধিভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলেজগুলিতে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য। আজ সোমবার গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি লোক ভবন, অসমের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে।
বৈঠকে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ একটি রূপান্তরমুখী ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক নীতি, যা ভারতীয় মূল্যবোধে ভিত্তিশীল থেকে একবিংশ শতাব্দীর সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে প্রণীত। বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলিতে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে তিনি বলেন, কলেজগুলিকে বহুমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে হবে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর জাতীয় স্বপ্ন পূরণে দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি চার বছরের স্নাতক কর্মসূচি, একাধিক প্রবেশ ও প্রস্থান বিকল্প, অ্যাকাডেমিক ব্যাংক অব ক্রেডিটস, দক্ষতাভিত্তিক পাঠক্রম, শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শিক্ষকদের শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন, উদ্ভাবনী শিক্ষাদান পদ্ধতির গ্রহণ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিরাপদ পরিকাঠামো, পুষ্টি, ক্রীড়া, যোগব্যায়াম ও পরামর্শ পরিষেবার গুরুত্বের কথা বলেছেন। রাজ্যপাল বলেন, এনসিসি, স্কাউটস অ্যান্ড গাইডসের মতো সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যকলাপকে শিক্ষার মূল ধারার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও সেবার মানসিকতা গড়ে ওঠে।
রাজ্যপাল শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রশাসক ও অভিভাবক সহ সকল অংশীদারদের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর কার্যকর ও অর্থবহ বাস্তবায়নে কাজ করার আহ্বান জানান, যা দক্ষ, ক্ষমতায়িত ও দায়িত্বশীল নাগরিক গঠনে সহায়ক হবে এবং জাতি গঠনে অবদান রাখবে।
বৈঠকে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রাজ্যপালের ওএসডি অধ্যাপক বেচন লাল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে একটি কাঠামোবদ্ধ ও বহুমুখী পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। জন-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, শিল্প ও অ্যাকাডেমিক সংযোগ, গবেষণা প্রকল্প এবং প্রাক্তনী অনুদানের কৌশলগত ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক উৎস গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিশেষ ডেভেলপমেন্ট সেল গঠন সম্পদ সংগ্রহকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, পাশাপাশি শিল্প-সমন্বিত দক্ষতা কোর্স ও সিএসআর-সমর্থিত উদ্যোগ রাজস্ব আহরণকে শিক্ষাগত প্রাসঙ্গিকতা, কর্মসংস্থানযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত রাখবে।
উল্লেখ্য, ২৫টি জেলার ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪০০-র বেশি কলেজের উপাচার্য ও প্রতিনিধি আজকের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন। বৈঠকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ননীগোপাল মহন্ত, রাজ্যপালের ওএসডি অধ্যাপক বেচন লাল, উচ্চশিক্ষা দফতরের কমিশনার-সচিব নারায়ণ কুণ্ডার, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিকর্তা মমতা হোজাই, এসসিইআরটি অধিকর্তা ড. নিরোদা দেবী, গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক উৎপল শর্মা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস