
শিলং, ১১ মাৰ্চ (হি.স.) : ‘গারোপাহাড় স্বশাসিত জেলা পরিষদ’ (গারো হিলস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল, সংক্ষেপে জিএইচএডিসি)-এর নিৰ্বাচনে অ-জনজাতিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না বলে নিষেধাজ্ঞাজনিত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল তা বাতিল করে দিয়েছে মেঘালয় হাইকোর্ট। প্রসঙ্গত, পরিষদ নির্বাচনে কেবল নির্ধারিত উপজাতিভুক্ত প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন বলে বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, নিষেধা সংবলিত বিজ্ঞপ্তিটি যথাযথ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জারি করা হয়েছিল, ফলে তা আইনি পরীক্ষায় যথাযত বলে বিবেচিত হয়নি।
গত মাসে ‘গারোপাহাড় স্বশাসিত জেলা পরিষদ’-এর এগজিকিউটিভ কমিটির একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধান এগজিকিউটিভ সদস্য এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল জিএইচএডিসি নির্বাচনে অ-জনজাতি প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত রাখা।
কোনও এক ভোটার আদালতে এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলেন, এটি ‘আসাম অ্যান্ড মেঘালয়া অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট (কনস্টিটিউশন অব ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল) রুলস, ১৯৫১’-এর লঙ্ঘন, যেখানে জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের যোগ্যতার নিয়ম নির্ধারিত আছে।
শুনানির সময় আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী যুক্তি প্ৰদৰ্শন করে আদালতকে বলেন, ‘এই বিজ্ঞপ্তি কার্যত বৈধ অ-জনজাতি ভোটার ও প্রার্থীদের ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। অথচ সংশ্লিষ্ট নিয়মে কোনও সংশোধন করা হয়নি।’
আইনজীবী আরও বলেন, এই পদক্ষেপের জন্য ১৯৫১ সালের নিৰ্ধারত নিয়মের ৭২ নম্বর বিধি অনুযায়ী জেলা পরিষদ এবং রাজ্যপালের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। অথচ এ ক্ষেত্রে এই অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
আদালতকে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বলা হয়, ১৯৫২ সালে ‘গারোপাহাড় স্বশাসিত জেলা পরিষদ’ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অ-জনজাতিরা ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছেন এবং পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনও করেছেন।
অন্যদিকে ‘গারোপাহাড় স্বশাসিত জেলা পরিষদ’ তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজাতিদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এগজিকিউটিভ কমিটি জরুরি ক্ষমতা বলে এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
সব শুনে হাইকোর্ট জানিয়েছে, এগজিকিউটিভ কমিটি কেবল নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিতে পারে, সেই পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে জেলা পরিষদ ও রাজ্যপালের অনুমোদন আবশ্যক।
আদালত রায় দিয়ে বলেছে, ‘এই বিজ্ঞপ্তি আইনি পরীক্ষায় পাস হতে পারেনি। তাই এটি বাতিল ও খারিজ করা হলো।’ এই রায়ের মাধ্যমে আদালত রিট পিটিশনের নিষ্পত্তি করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস