
আগরতলা, ১১ মার্চ (হি.স.) : নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানালেন ত্রিপুরার শ্রমমন্ত্রী টিংকু রায়। বুধবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্পের জন্য ডায়নামিক ওয়েব ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন এবং মোবাইল অ্যাপের উদ্বোধন করে তিনি এই আহ্বান জানান।
রাজধানী আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বোতাম টিপে এই নতুন ডিজিটাল পরিষেবার সূচনা করেন শ্রমমন্ত্রী টিংকু রায়। অনুষ্ঠানে শ্রম দফতরের সচিব, শ্রম কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রমমন্ত্রী জানান, রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে পাঁচ লক্ষেরও বেশি ঘর নির্মাণ হয়েছে, যার জন্য প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এইসব প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছেন এবং তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রকল্পভিত্তিক টাকাও জমা পড়ছে।
তিনি বলেন, রাজ্যে আনুমানিক এক লক্ষেরও বেশি নির্মাণ শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ জোগালি, কেউ প্লাম্বার, কেউ বিদ্যুৎ কর্মী আবার কেউ রংমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিকই সরকারি নথিতে নথিভুক্ত হয়েছেন। ফলে বাকি অনেক শ্রমিকই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বাকি শ্রমিকদেরও নথিভুক্ত করে তাঁদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ধর্মনগর, কৈলাসহর ও আগরতলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ‘লেবার স্টল’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা সেখানে বসার সুযোগ পান।
এছাড়াও তিনি বলেন, নির্মাণ শ্রমিকদের পরিবারের মেয়েদের বিয়ের জন্য পূর্ববর্তী সরকার যেখানে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিত, সেখানে ২০১৮ সালের পর বিজেপি পরিচালিত সরকার সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ