প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রসারিত আধুনিক রেল পরিষেবা
- বাংলায় চলছে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ গুয়াহাটি, ১১ মাৰ্চ (হি.স.) : বিগত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গে রেলওয়ের উন্নয়নের গতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অনেক প্রজেক্ট বছরের পর বছর অসম্পূর্ণ ছিল এবং রেলওয়ে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ রাজ্যে প
পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রসারিত আধুনিক রেল পরিষেবা


- বাংলায় চলছে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ

গুয়াহাটি, ১১ মাৰ্চ (হি.স.) : বিগত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গে রেলওয়ের উন্নয়নের গতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অনেক প্রজেক্ট বছরের পর বছর অসম্পূর্ণ ছিল এবং রেলওয়ে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ রাজ্যে প্রয়োজনীয় গতি পায়নি। এই পরিস্থিতি এখন দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় রেলওয়েতে বৃহৎ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এই পরিবর্তন কেবল নতুন রেললাইন এবং স্টেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সংযোগ, সুরক্ষা, যাত্রী-সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের নতুন পথ উন্মোচন করছে।

আজ বুধবার গুয়হাটিতে অবস্থিত উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এ তথ্য দিয়ে জানান, বর্ধিত বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিতকৃত সংখ্যাগুলি নিজেই এই পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে। ২০০৯-১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের জন্য গড় বার্ষিক রেল বাজেটের অনুমোদন ছিল প্রায় ৪,৩৮০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য অনুমোদন তিনগুণেরও বেশি বেড়ে ১৪,২০৫ কোটি টাকা হয়েছে। অভূতপূর্ব এই বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে রাজ্যের রেলওয়ে পরিকাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়।

কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, বর্ধিত বিনিয়োগে পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ পরিকাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে নতুন রেলপথ নির্মাণ, স্টেশন পুনর্নির্মাণ, সুরক্ষা উন্নয়ন এবং রেলওয়ের ক্ষমতা সম্প্রসারণ রয়েছে। এর লক্ষ্য, রাজ্যের প্রতিটি অংশকে দ্রুত এবং উন্নত রেল যোগাযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত করা।

তিনি বলেন, রেলওয়ে স্টেশনগুলি আধুনিক 'সিটি সেন্টার' হয়ে উঠছে যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও আধুনিক, সুবিধাজনক এবং বিশ্বমানের করার জন্য। পশ্চিমবঙ্গের রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে বৃহৎ পরিসরে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির অধীনে রাজ্যের মোট ১০১টি রেলওয়ে স্টেশন পুনর্নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৩,৬০০ কোটি টাকা। এই স্টেশনগুলিকে উন্নত যাত্রী-সুবিধা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং আকর্ষণীয় অথচ কার্যকরী ডিজাইন দিয়ে আপগ্রেড করা হচ্ছে যাতে এগুলি পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলেও পরিণত হতে পারে।

এখন পর্যন্ত রাজ্যের নয়টি রেলওয়ে স্টেশনের পুনর্নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আনারা, বরাভূম, হলদিয়া, জয়চণ্ডীপাহাড় জংশন, কল্যাণী ঘোষপাড়া, কামাখ্যাগুড়ি, পানাগড়, সিউড়ি এবং তমলুক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে জয়চণ্ডীপাহাড় জংশন, কল্যাণী ঘোষপাড়া এবং পানাগড়ের পুনর্নির্মিত স্টেশনগুলি ইতিমধ্যেই উদ্বোধন করা হয়েছে।

উন্নত এই স্টেশনগুলিতে এখন উন্নত ওয়েটিং এরিয়া, উন্নত সাইনবোর্ড এবং লাইটিং, ডিজিটাল ইনফরমেশন সিস্টেম, বৃহৎ সঞ্চালন এলাকা, ফুডকোর্ট, পার্কিং সুবিধা, সুগম চলাচলের জন্য পৃথক প্রবেশ এবং প্রস্থান পয়েন্ট, অ্যাক্সেসযোগ্যতার জন্য লিফট এবং এস্কেলেটর, পরিষ্কার পরিবেশ এবং নান্দনিকভাবে ডিজাইনকৃত স্টেশন ভবন রয়েছে। এই সুযোগ-সুবিধাগুলি যাত্রীদের জন্য রেল ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক, সুরক্ষাযুক্ত এবং মনোরম করে তুলছে বলে জানান উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande