
নয়াদিল্লি, ১১ মার্চ (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার (১১ মার্চ) কেরল সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী কেরলের এর্নাকুলামে দুপুর ১:৩০ মিনিটে, প্রায় ১০,৮০০ কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) এর কোচির শোধনাগারে পলিপ্রোপিলিন ইউনিটের শিলান্যাস করবেন। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫,৫০০ কোটি টাকারও বেশি। প্রস্তাবিত পলিপ্রোপিলিন ইউনিটের ক্ষমতা বার্ষিক ৪০০ কিলো টন। প্যাকেজিং, স্বয়ংক্রিয় উপাদান, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বস্ত্র শিল্প এবং গৃহস্থালী পণ্যে পলিপ্রোপিলিন একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরে পলিমার উৎপাদন ক্ষমতা শক্তিশালী হবে, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে, শিল্প উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিকাঠামো ক্ষেত্রে, দুটি প্রধান মহাসড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। ২,৬৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত ৬৬ নম্বর জাতীয় সড়কের থালাপাড়ি-চেঙ্গালা অংশে ছয় লেনের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে মুম্বাই-কন্যাকুমারী অর্থনৈতিক করিডোর এবং কাসারগোড় ও কান্নুর জেলা এবং ম্যাঙ্গালোর ও মুঝাপিলাঙ্গড় সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। কাসারগোড়, বেকাল, পায়্যান্নুর এবং কান্নুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে, আজিকল বন্দরের সঙ্গেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, ফলস্বরূপ ব্যবসা বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটবে।
দ্বিতীয় প্রকল্পটি হল প্রায় ২,১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভেঙ্গালাম থেকে রামানাত্তুকারা পর্যন্ত ছয় লেনের কোঝিকোড় বাইপাস। এই প্রকল্পটি বর্তমান অবিভক্ত দুই লেনের রাস্তার দুই পাশে পরিষেবার সম্প্রসারণ সহ ছয় লেনের মহাসড়কে উন্নীত করবে। এর ফলে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যান চলাচল ক্ষমতা এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়বে। আগে এই রাস্তা দিয়ে যেতে এক ঘন্টারও বেশি সময় লাগত। এখন তা প্রায় কমে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি কোঝিকোড় সমুদ্র সৈকত, বেপোর বন্দর এবং কাপ্পাড় সমুদ্র সৈকতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করবে, ফল স্বরূপ এই অঞ্চলে পর্যটনশিল্প এবং ব্যবসা বাণিজ্যর প্রসার ঘটবে।
কেরলে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে নির্মিত ২৩টি গ্রামীণ রাস্তার উদ্বোধনও করবেন। এই রাস্তাগুলি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করবে। এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের বাজার বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে। আগামী দিনে গ্রামাঞ্চলে আরও কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় নবরূপে সজ্জিত শোরানুর জংশন, কুট্টিপুরম এবং চাঙ্গানাসেরি রেল স্টেশন তিনটি উদ্বোধন করবেন। এই স্টেশনগুলিতে উন্নত যাত্রী সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করা হয়েছে। স্টেশনগুলির সংস্কারের সময় স্থাপত্য সংক্রান্ত স্থানীয় উপাদানগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীরা আধুনিক ও সুরক্ষিত পরিষেবা পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী শোরানুর-নিলাম্বুর রোড শাখার বিদ্যুতায়ন প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। গুরুত্বপূর্ণ এই রেল বিভাগের বিদ্যুদয়নের ফলে শোরানুরে ইঞ্জিন বদলাতে হবেনা, সুস্থায়ী ও দক্ষভাবে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী পালাক্কাড় এবং পোল্লাচির মধ্যে একটি নতুন ট্রেন পরিষেবারও উদ্বোধন করবেন, এর ফলে কেরল এবং তামিলনাড়ুর মধ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। এই পরিষেবা দুই রাজ্যের মধ্যে চলাচলকারী নিত্য যাত্রী, তীর্থযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের জন্য সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী কেরলের কোল্লাম জেলার পশ্চিম কাল্লাড়ে ৫০ মেগাওয়াট ভাসমান সৌর প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। ভারতের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুস্থায়ীভাবে কম কার্বন নিঃসরণে ভবিষ্যতের প্রতি দেশের অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ