জলাভূমি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের স্ত্রীকে তলব পুলিশের
মুর্শিদাবাদ, ১১ মার্চ (হি.স.): বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের অস্বস্তি আরও বাড়ল। জলাভূমি এবং নিকাশি নালা ভরাট করে বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগে এবার তাঁর স্ত্রী ম
হুমায়ুন কবীর


মুর্শিদাবাদ, ১১ মার্চ (হি.স.): বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের অস্বস্তি আরও বাড়ল। জলাভূমি এবং নিকাশি নালা ভরাট করে বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগে এবার তাঁর স্ত্রী মীরা সুলতানাকে তলব করল পুলিশ। বুধবার তাঁকে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মুর্শিদাবাদ জেলার মানিকাহার গ্রামে হুমায়ুন কবীরের যে বাড়িটি রয়েছে, সেটি তাঁর স্ত্রী মীরা সুলতানার নামে নথিভুক্ত। এই বাড়িটি নিয়েই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, জমির চরিত্র পরিবর্তন না করেই সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি নিকাশি নালা বা ‘নালা’ শ্রেণির জমির ওপর এই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

এর আগে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের পক্ষ থেকে মীরা সুলতানাকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, মানিকাহার মৌজার ৯২ নম্বর জেএল এবং ৪৪০৪ নম্বর দাগের প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র বেআইনিভাবে বদলানো হয়েছে। এই বিষয়ে একটি গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগও জমা পড়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে ১৯৫৫ সালের পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন অনুযায়ী কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘নালা’ শ্রেণির জমি সাধারণত জলনিকাশি ব্যবস্থা বা ছোট জলাশয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। আইন অনুযায়ী এই ধরনের জমি ভরাট করা বা চরিত্র পরিবর্তন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি ছাড়া এই জমি আবাসিক কাজে ব্যবহার করা যায় না।

এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর জানান, যে বাড়িটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সেখানে তিনি বিগত ১৭-১৮ বছর ধরে বসবাস করছেন। ২০০৩ সালে স্থানীয় এক ঠাকুর পরিবারের কাছ থেকে ওই জমি কেনা হয়েছিল এবং ২০০৭ সাল থেকে তাঁরা সপরিবারে সেখানে থাকছেন। তাঁর দাবি, বাম আমল থেকেই তিনি জমির চরিত্র পরিবর্তনের জন্য বিএলআরও এবং এসডিএলআরও অফিসে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় ফি-ও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও সেই অনুমতি মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গড়ার কারণেই এখন তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande