অসমে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে, অসমবাসীর আশীর্বাদে ‘বিকশিত অসম’-এর সংকল্প অবশ্যই পূরণ হবে : প্রধানমন্ত্রী
গুয়াহাটি, ১৩ মাৰ্চ (হি.স.) : কোকরাঝাড় বড়ো সংস্কৃতির গৌরবের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, বড়োল্যান্ড আজ শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, অসম লিখছে শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায়, আমাদের সরকার বড়ো সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে জাতীয় স্তরে সম্মান নিশ্চ
ভার্চুয়াল ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী


কামাখ্যা-চার্লাপল্লি অমৃতভারত সহ তিনটি এক্সপ্রেসের যাত্রারম্ভ প্রধানমন্ত্রীর


কোকরাঝাড়ের বডোফানগরে গ্রিনফিল্ড ময়দানে হাজারো জনতার একাংশ


গুয়াহাটি, ১৩ মাৰ্চ (হি.স.) : কোকরাঝাড় বড়ো সংস্কৃতির গৌরবের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, বড়োল্যান্ড আজ শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে, অসম লিখছে শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায়, আমাদের সরকার বড়ো সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে জাতীয় স্তরে সম্মান নিশ্চিত করেছে, বড়োদের ঐতিহ্যবাহী ধর্ম বাথৌ যথাযথ মর্যাদা পেয়েছে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আজ শুক্রবার গুয়াহাটির কইনাধরা রাজ্য অতিথিশালা থেকে ভার্চুয়ালি অসমের কোকরাঝাড়ে বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এ উপলক্ষ্যে কোকরাঝাড়ের বডোফানগরে গ্রিনফিল্ড ময়দানে হাজারো জনতার উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খারাপ আবহাওয়ার দরুন তিনি সশরীরে কোকরাঝাড়ে যেতে পারেননি। তাই উপস্থিত জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বলেন, তিনি গুয়াহাটি থেকে এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন।

এই ভূমির (বড়োল্যান্ড) মহান ব্যক্তিত্ব উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্ম এবং রূপনাথ ব্রহ্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তাঁর কাছে এক ধরনের দায়বদ্ধতা, যা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা ও অঞ্চলের উন্নয়নের মাধ্যমে শোধ করতে চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুয়াহাটিতে তাঁর পূর্ববর্তী সফরের সময় তিনি বড়ো সংস্কৃতির প্রাণবন্ত প্রকাশ দেখেছিলেন বাগুরুম্বা দহৌ উৎসবে। তিনি বলেন, বড়ো সমাজ তাঁদের ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যত্নসহকারে সংরক্ষণ করেছে, যার জন্য তাঁদের বিশেষ কৃতিত্ব প্রাপ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাথৌ ধর্মীয় অনুশীলন এবং বৈশাগুর মতো উৎসব ভারতের সাংস্কৃতিক শক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে।

তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার অসমের ঐতিহ্য রক্ষা এবং দ্রুত উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী জানান, আজকের কর্মসূচিতে ৪,৫০০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়োল্যান্ড অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে ১,১০০ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, অসম মালা অভিযানের তৃতীয় পর্যায় রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনবে।

মোদী বলেন, কামাখ্যা-চার্লাপল্লি অমৃতভারত এক্সপ্রেস এবং গুয়াহাটি-নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু করেছেন। এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়বে। তিনি বলেন, এ সব পরিবহণ প্রকল্প মানুষের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য ও পর্যটনকে উৎসাহিত করবে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা সহজেই বড় বাজারে তাঁদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোকরাঝাড় ও আশপাশের অঞ্চল বহু দশক ধরে সংঘর্ষ ও সহিংসতার কষ্ট ভোগ করেছে। একসময় পাহাড়ে বন্দুকের শব্দ শোনা যেত, কিন্তু এখন সেখানে শোনা যায় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘খাম’ ও ‘সিফুং’-এর সুর। তিনি বলেন, আজ বড়োল্যান্ড ও অসম শান্তি ও সমৃদ্ধির নতুন অধ্যায় লিখছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ বিটিআর অঞ্চলে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রেল যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য একটি রেলওয়ে ওয়ার্কশপ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ রেল সংযোগ এবং বিভিন্ন স্টেশনের আধুনিকীকরণ এই অঞ্চলকে একটি বড় লজিস্টিক হাবে পরিণত করবে। কোকরাঝাড়ে বন্দেভারত এক্সপ্রেস এবং রাজধানী এক্সপ্রেসের স্টপেজ এই অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়ার প্রতীক।

উন্নয়নের কাজে নিষ্ঠার জন্য বিটিআর-এ হাগ্ৰামা মহিলারি (বিটিসি-প্রধান) এবং হিমন্তবিশ্ব শর্মার (অসমের মুখ্যমন্ত্রী) নেতৃত্বাধীন সরকারগুলিকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্থায়ী শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ‘বড়ো শান্তি চুক্তি’ একটি ঐতিহাসিক সাফল্য, যা বিভিন্ন সংগঠনকে এক মঞ্চে এনেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২০ সালের বড়ো চুক্তির সব প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ করছে। বড়ো ভাষাকে সহযোগী সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়ার পা্শাপাশি ১,৫০০ কোটি টাকার বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন এবং প্রায় ১০ হাজার প্রাক্তন জঙ্গিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কাজও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে বড়ো সম্প্রদায়ের ধর্ম ও ঐতিহ্য জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাথৌ ধর্মকে পৃথক জনগণনা কোড দেওয়া হয়েছে এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানের উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী অসমে অবৈধ বেদখলদারদের কাছ থেকে জমি উদ্ধার অভিযানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অসমের আদি (ভূমিপুত্র) বাসিন্দাদের আইনি জমির অধিকার প্রদান করেছে।

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আত্মনির্ভর অসম গড়তে উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, অসমবাসীর আশীর্বাদে ‘বিকশিত অসম’-এর লক্ষ্য অবশ্যই সফল হবে এবং নতুন প্রকল্পগুলির সাফল্যের জন্য তিনি শুভেচ্ছা জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande