
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৩ মার্চ (হি.স.) : প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আর সেই অন্ধকারেই মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হল উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীদের। শুক্রবার ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী এদিন জীববিজ্ঞান, হিসাবশাস্ত্র ও ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ করে আকাশ মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় হালকা বৃষ্টি ও তুফান। এর ফলে এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয় এবং বেশ কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্র অন্ধকারে ডুবে যায়।
ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়সহ মহকুমার একাধিক স্কুলে তখন তড়িঘড়ি বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করতে হয়। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ রঞ্জন পাল জানান, ফটিকরায় সেন্টারের দুটি ভেন্যুতে মোট ৫৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং দীর্ঘ সময় তা ফিরে না আসায় স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬০ প্যাকেট মোমবাতি কিনে এনে প্রতিটি বেঞ্চে জ্বালিয়ে দেয়। সেই মোমবাতির আলোতেই প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা চলে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছে।
পরীক্ষার্থীরাও জানিয়েছে, পরীক্ষার মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শুরুতে লিখতে অসুবিধা হয়েছিল। পরে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়। সায়ন মালাকার নামে এক পরীক্ষার্থী জানায়, জীবনে এই প্রথম মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। কিছুটা সমস্যা হলেও শেষ পর্যন্ত তারা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
শুধু ফটিকরায় নয়, কুমারঘাট মহকুমার একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রেই এদিন একই পরিস্থিতি দেখা যায়। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ