
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১৬ মার্চ (হি.স.): রবিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর নির্বাচন ঘোষণার পরই রাজ্যজুড়ে লাগু হয়ে গিয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। কমিশনের নির্বাচনের দিনক্ষণ প্রকাশের আধ ঘণ্টার ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিংয়ে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠল। রবিবার ক্যানিংয়ে ঘটা করে সরকারি পার্কের উদ্বোধন করেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি লাগুর পর এভাবে পার্কের উদ্বোধন করা যায় কিনা।
রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে কমিশন। জানানো হয়, ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যগুলিতে আদর্শ আচরণবিধি লাগু হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক বৈঠক শেষ হতে না হতেই আধ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্যানিং ১ পঞ্চায়েত সমিতি এলাকায় সরকারি পার্ক উদ্বোধন করলেন ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। বিধায়ক তহবিলের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘নেতাজি সুভাষ পার্ক’ উদ্বোধনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই রাজ্যে কোনও নতুন সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন বা শিলান্যাস করা যায় না। কিন্তু সেই নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠছে শাসকদলের বিধায়কের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, এটা কোনও নিয়মভঙ্গ নয়। অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। চার দিন আগে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া ছিল। এদিন শুধু উদ্বোধন হয়েছে। এই পার্কের জন্য ৩ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এক কোটি টাকার কাজ হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এই পার্কের উদ্বোধনে কোনও আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। যদিও এই নিয়ে শাসকদলকে নিশানা করেছে বিজেপি। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব সোমবার তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, এই রাজ্যে সংবিধান বা আইনের কোনও বালাই নেই। তৃণমূলের কাছে নিয়ম মানেই তা ভাঙার জন্য। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করুক।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ