
ঝাড়গ্রাম, ২ মার্চ (হি. স.): হাতির দলকে ড্রাইভ (তাড়ানোর) করানোর সময় ধান, গম, আলু-সহ একাধিক ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাতির দল এলাকায় ঢুকে পড়ায় জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে ৩০টি হাতির একটি দল বেলপাহাড়ি এলাকার তারাফেনী নদীর ক্যানেল পেরিয়ে হাতিমারার জঙ্গলে প্রবেশ করে। এর আগে রবিবার ভোরে ৩৫টি হাতির এই দলটি লালগড় দিক থেকে কুশবনীর জঙ্গলে ঢোকে। পরে রবিবার রাতে বনদফতরের কর্মীরা হাতির দলটিকে ড্রাইভ করার সময় ৫টি হাতি দলছুট হয়ে কুশবনীর জঙ্গলেই থেকে যায়। বাকি ৩০টি হাতিকে বেলপাহাড়ির দিকে ড্রাইভ করানোর সময় বুড়িশোল, কপাটকাটা ও গোলাশুলি এলাকায় ধান, গম, আলু ও করলা চাষের জমিতে হানা দেয় হাতির দল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক কৃষকের খেত কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ধান, গম ও আলুর ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও এই হামলায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
পরবর্তীতে বনকর্মীরা হাতির দলটিকে ধীরে ধীরে বেলপাহাড়ি রেঞ্জের হাতিমারার জঙ্গলে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হন। বনদফতর সূত্রে খবর, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে এদিনই হাতির দলটিকে ঝাড়খণ্ডের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, কুশবনীর জঙ্গলে থেকে যাওয়া পাঁচটি হাতিকে ঘিরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুড়িশোল, কপাটকাটা, বড়শোল ও সরাকাটা এলাকার কৃষকেরা আবারও ফসলহানির ভয় পাচ্ছেন। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। জঙ্গলের ধারে অযথা ভিড় না করার, রাতে একা বের না হওয়ার এবং হাতির গতিবিধি দেখলেই দ্রুত বনকর্মীদের খবর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, “হাতির দলের গতিবিধি বুঝে তাদের ড্রাইভ করা হবে। মানুষের নিরাপত্তা এবং হাতির সুরক্ষা— দুই দিকই মাথায় রেখে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো