


গুয়াহাটি, ২০ মাৰ্চ (হি.স.) : কয়েক হাজার কাৰ্যকৰ্তা-সমৰ্থকদের নিয়ে মিছিল করে মনোনয়ন পেশ করেছেন ৩৭ নম্বর জালুকবাড়ি আসনে বিজেপি-প্রার্থী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। মিছিলে অন্যদের সঙ্গে ছিলেন গুয়াহাটির সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, ড. শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভুইয়াঁ শর্মা, পুত্র নন্দিল বিশ্ব শর্মা।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) খানাপাড়া ময়দান থেকে এক বিশাল মিছিল করে গুয়াহাটিতে অবস্থিত কামরূপ মেট্ৰো-র ডিস্ট্রিক্ট কমিশনারের কাৰ্যালয়ে গিয়ে ৩৭ নম্বর জালুকবাড়ি আসনে বিজেপি-প্রার্থী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে ড. শর্মার এই শক্তি প্রদর্শন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে এক হাইভোল্টেজ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের সূচনা করেছেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
জেলাশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন পেশ করে বাইরে এসে উপস্থিত সাংবাদিকদের বাইট দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেন, এবারের নির্বাচন তাঁর ‘সপ্তম নির্বাচন’। জাতির পরিচয় রক্ষা ও উন্নয়ন, এই দুই বিষয়কে ইস্যু করে প্রচার চালানোর কথা জানান ড. শৰ্মা। তিনি বলেন, ‘আমরা অসমের পরিচয় সুরক্ষিত করতে চাই। দ্রুত উন্নয়ন চাই আমরা। এই দুটোই আমাদের লক্ষ্য।’ একই সঙ্গে তিনি অসমবাসীর ‘পূর্ণ সমর্থন’ পাওয়ার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
অসমবাসীর কাছে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ কামনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজ আমার বহু সহকর্মী রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন জমা দেবেন। আগামী ২৩ মার্চ বাকি প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
বিজেপি ও মিত্রদলের প্রার্থীদের আশীর্বাদ করার জন্য তিনি অসমবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। প্ৰতিকূল আবহাওয়া, বৃষ্টি, এ সম্পৰ্কে তিনি বলেন, যে কোনও শুভ কাজের আগে বৃষ্টি হলে আমরা তাকে পুষ্পবৃষ্টি বলে মনে করি। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির মধ্যেও জালুকবাড়ির মানুষ তাঁর সঙ্গে মনোনয়ন জমা দিতে বেরিয়ে এসেছেন, তাই আগের মতোই তিনি জনগণের আশীর্বাদ পাবেন বলে আশা করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২৩ মার্চ অসম গণ পরিষদ (শরিক দল)-এর সভাপতি অতুল বরার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিন তিনি ৫ থেকে ৬টি নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে আজ মনোনয়নের জন্য এসেছে, কাল ফিরে যাবে। মেয়ে আসতে চাইলেও পরীক্ষার জন্য আসতে পারেনি। স্ত্রী রিনিকি ভুইয়াঁ শর্মা জালুকবাড়ি কেন্দ্রে তাঁর হয়ে প্রচার চালাবেন, জানান তিনি।
এক জিজ্ঞাসার জবাবে হিমন্তবিশ্ব বলেন, শিবসাগরে বিজেপি প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগে অসম গণ পরিষদ-এর সঙ্গে আলোচনা হবে। বিজেপি কতগুলি আসনে জয়ী হবে, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখনই জয় নিয়ে কথা বলা অহঙ্কারের মতো শোনাবে। তবে ১০২টি আসনে বিজয়ী হতে বিজেপি ও মিত্রজোট গুরুত্ব সহকারে নির্বাচনে লড়বে।
দলীয় টিকিট-বঞ্চিত প্রাক্তন বিধায়কদের প্রসঙ্গে ড. শর্মা বলেন, তাঁর বিশ্বাস অতুল বরা (দিশপুরের বিজেপি বিধায়ক) এবং সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বিজেপি-প্রার্থীদের আশীর্বাদ করবেন। তাঁদের সঙ্গে তিনি দেখা করে কথা বলবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের এক মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ড. শর্মা বলেন, যদি কেউ প্রশংসা করে তবে তা গ্রহণ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, এমন মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান’-এ পরিণত হয়েছেন, যদিও তিনি নিজে তা দাবি করেন না।
মুখ্যমন্ত্ৰী আজ ফের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, বিজেপিতে অন্য দল থেকে আরও নেতা যোগ দিতে পারেন। আরও বলেন, ‘প্রত্যেক হিন্দুকে বিজেপির আওতায় আনা’ই তাঁর একটি লক্ষ্য। তাঁর মতে ‘হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।’
জলুকবাড়ি থেকে পাঁচবারের বিধায়ক হিমন্তবিশ্ব শর্মা প্রথমবার ২০০১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হন। এর পর টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন ওই আসনে। পরে ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি অসম রাজনীতিতে দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভুইয়াঁ শর্মা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, রাজ্যের মানুষ উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
প্রসঙ্গত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে লড়াই হবে কংগ্রেসের। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (বিজেপি, অসম গণ পরিষদ এবং ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল) ১২৬টির মধ্যে ৭৫টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি একাই জেতে ৬০টি আসনে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট (এআইইউডিএফ, বিপিএফ এবং বাম দলগুলি) পেয়েছিল ১৬টি আসন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস